ইসলামিক জ্ঞানের আন্তঃরাজ্য প্রতিযোগিতা: করনদীঘীর জামিয়া আল ফুরকানের উদ্যোগে
নতুন পয়গাম, রৌশন আলম, উত্তর দিনাজপুর: বর্তমান প্রজন্ম ক্রমশ কুরআন, হাদিস, তাফসির ও নবীজীর জীবনাদর্শ (সীরাত) সম্পর্কে জানার আগ্রহ হারাচ্ছে এমন উদ্বেগ থেকেই এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিল উত্তর দিনাজপুরের করনদীঘীতে অবস্থিত জামিয়া আল ফুরকান। ইসলামি জ্ঞানের প্রসার এবং ছাত্রসমাজকে দ্বীনি শিক্ষায় উৎসাহিত করার লক্ষ্যে পশ্চিমবঙ্গ, বিহার ও ঝাড়খন্ডের ছাত্রদের নিয়ে আয়োজন করা হয় এক আন্তঃরাজ্য ইসলামিক জ্ঞান প্রতিযোগিতা। এই প্রতিযোগিতার মোট পুরস্কার মূল্য ছিল প্রায় এক লক্ষ টাকা, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ ও উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। প্রায় ছয়শোরও বেশি ছাত্র এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে, যা এই উদ্যোগের ব্যাপকতা ও গুরুত্বকে স্পষ্ট করে। বিভিন্ন রাজ্য থেকে আগত ছাত্র ও তাদের অভিভাবকদের উপস্থিতিতে গোটা ক্যাম্পাসে এক উৎসবমুখর ও উদ্দীপনাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে আমন্ত্রিত হন বিশিষ্ট ইসলামী স্কলার ও আলেমরা, যা প্রতিযোগিতার মান আরও বৃদ্ধি করে।
২৩ মার্চ প্রতিযোগী ও অভিভাবকরা জামিয়ায় উপস্থিত হন এবং ২৪ মার্চ অনুষ্ঠিত হয় মূল পরীক্ষা। প্রতিযোগীদের জন্য খাবার ও থাকার সুসংগঠিত ব্যবস্থা করে জামিয়া কর্তৃপক্ষ, যা প্রশংসনীয় উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। প্রতিযোগিতায় মোট চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিভাগ রাখা হয়। প্রথম বিভাগে ‘আর-রাহীকুল মাখতুম’ (সীরাতের মাক্কী অধ্যায়) থেকে প্রশ্ন করা হয়, যেখানে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পুরস্কার ছিল যথাক্রমে ১৫,০০০, ১২,০০০ ও ১০,০০০ টাকা। দ্বিতীয় বিভাগে বাছাইকৃত ১০০টি হাদিস থেকে পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং পুরস্কার ছিল ১০,০০০, ৮,০০০ ও ৬,০০০ টাকা। তৃতীয় বিভাগে আত্মাপারার অনুবাদ ও তাফসীর (জুনগড়ি) অন্তর্ভুক্ত ছিল, যেখানে পুরস্কার ছিল ৮,০০০, ৭,০০০ ও ৬,০০০ টাকা। চতুর্থ বিভাগে ‘উসুলুস সালাসা’ মুখস্থের উপর পরীক্ষা নেওয়া হয়, যার পুরস্কার ছিল যথাক্রমে ৭,০০০, ৬,০০০ ও ৫,০০০ টাকা।
এছাড়াও, যেসব অংশগ্রহণকারী ৬০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর অর্জন করেছে, তাদের প্রত্যেককে ৫০০ টাকা করে উৎসাহমূলক পুরস্কার প্রদান করা হয় এবং ৫০ শতাংশ বা তার বেশি নম্বর প্রাপ্ত সকল অংশগ্রহণকারীকে শংসাপত্র দেওয়া হয়। প্রতিযোগিতা দুটি ধাপে অনুষ্ঠিত হয় প্রথমে লিখিত এবং পরে মৌখিক পরীক্ষা। উভয় পরীক্ষার ভিত্তিতে মেধা তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন জামিয়া আল ফুরকানের ডিরেক্টর মুহাম্মদ মুতাআল্লিম মাদানী ও অন্যান্য বিশিষ্ট অতিথিরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জামিয়া আল ফুরকানের ডিরেক্টর মুহাম্মদ মুতাআল্লিম মাদানী, ডক্টর মনসুর আলম মাদানী,জামিয়া ইমাম আলবানির ডিরেক্টর মতিউর রহমান মাদানী, বিশিষ্ট ইসলামী বক্তা আনুয়ারুল হক ফাইজি ও আব্দুর রহমান আদিল, জওহর নেহরু ইউনিভার্সিটির পিএইচডি স্কলার মুহাম্মদ শরিফসহ বহু গণ্যমান্য ব্যক্তি। অনুষ্ঠানের সমাপনী ভাষণে মুহাম্মদ মুতাআল্লিম মাদানী বলেন, “বর্তমান প্রজন্ম কুরআন, হাদিস, তাফসির ও নবীজীর জীবনী সম্পর্কে গভীর জ্ঞান অর্জনে অনীহা দেখাচ্ছে। তাদের মধ্যে দ্বীনের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি করতেই এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে তারা সঠিক জ্ঞান অর্জন করে নিজেদের এবং সমাজকে সঠিক পথ প্রদর্শন করতে পারে।” পুরস্কার বিতরণী ও অনুপ্রেরণামূলক বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সমাপ্তি ঘটে এই আন্তঃরাজ্য ইসলামিক জ্ঞান প্রতিযোগিতার।








