আবর্জনার স্তূপে শ্বাসরুদ্ধ কুমলাই, ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধে নাগরিক মঞ্চের বিক্ষোভ
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়িঃ শহরের প্রাণভোমরা বলে পরিচিত কুমলাই নদী আজ চরম দূষণের কবলে। পৌর এলাকার নোংরা আবর্জনা ফেলা ও বর্জ্যের স্তূপ জমে নদীটি কার্যত ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনই বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।ধূপগুড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে চলা কুমলাই নদী একসময় ছিল শহরের ‘লাইফলাইন’। বর্তমানে নদীর বিভিন্ন অংশে আবর্জনার স্তূপ জমে জলপ্রবাহ প্রায় বাধাপ্রাপ্ত। মাঝেমধ্যেই সেই আবর্জনায় আগুন লেগে ঘন ধোঁয়ায় ঢেকে যাচ্ছে আশপাশের রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ধোঁয়ার জেরে শ্বাসকষ্টসহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছেন অনেকে।
পৌরসভার ১১, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া এই নদী শুধু পরিবেশগত নয়, সামাজিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষত ছট পূজার মতো বৃহৎ ধর্মীয় অনুষ্ঠান এই নদীর ঘাটেই আয়োজিত হয়। অথচ বর্তমান পরিস্থিতিতে নদীর জলে নামা তো দূরের কথা, তার পাশ দিয়ে যাতায়াত করাও দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে বলে জানান বাসিন্দারা।এই অবস্থার প্রতিবাদে সরব হয়েছে ধূপগুড়ি মহকুমা নাগরিক মঞ্চ। রবিবার কুমলাই ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় সংগঠনের উদ্যোগে জোরালো প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হয়। পোস্টারিংয়ের পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা প্রতীকী পথ অবরোধে সামিল হন। কুমলাই নদীকে দূষণমুক্ত করার দাবিতে এদিন এশিয়ান হাইওয়ের ৪৮ নম্বর সড়ক অবরোধ করা হলে সাময়িক যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।নাগরিক মঞ্চের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে নদী পরিষ্কারে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে বৃহত্তর আন্দোলনে নামা হবে। তাঁদের দাবি, দ্রুত আবর্জনা অপসারণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং ভবিষ্যতে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কড়া প্রশাসনিক নজরদারি নিশ্চিত করতে হবে।কুমলাই নদীকে রক্ষা করতে অবিলম্বে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি তুলেছে ধূপগুড়ির নাগরিক সমাজ। শহরের অস্তিত্ব রক্ষায় নদী বাঁচানোই এখন প্রধান অগ্রাধিকার– এমনটাই মত সচেতন মহলের।








