জন্মদিনে অবহেলিত ভূদেব মুখোপাধ্যায়, তালাবন্ধ গ্রীলে মালা ঝুলিয়ে জন্মদিন পালন করল বিজেপি
নতুন পয়গাম, আব্দুল গফফার, হুগলিঃ রবিবার ছিল বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এবং লেখক ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের ১৯৯ তম জন্মদিন। সরকারিভাবে তাঁর জন্মদিনকে ঘিরে কোন অনুষ্ঠান বা শ্রদ্ধা জানাতে না দেখা গেলেও বিজেপির পক্ষ থেকে চুঁচুড়ায় ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের আবক্ষ মূর্তিতে মাল্যদান করতে এসে শাসক দলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দেন বিজেপি নেতারা। এই বিষয়ে তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদারকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, প্রতি বছর ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমরা এলাকাটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করি।
প্রসঙ্গতঃ ১৮২৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষাবিদ ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের জন্ম। হুগলির খানাকুলের নতিবপুরে আদি নিবাস ছিল। পরে কলকাতা এবং চুঁচুড়া শহরেও থাকতেন। চুঁচুড়া বড়বাজারে ভূদেব-এর বাড়ির সামনে তাঁর আবক্ষ মূর্তি রয়েছে।সেই মূর্তি ধূলোবালিতে মলিন হয়ে আছে। আগাছা আর শুকনো কাঠপাতায় ভর্তি মূর্তিস্থল। মূর্তির সামনে লোহার গ্রীলে তালা দেওয়া। রবিবার তাঁর জন্মদিন পালন করতে গিয়ে বিজেপি কর্মিরা গ্রীলের বাইরে ফুল মালা দিয়ে শ্রদ্ধাঞ্জলি দেন। বিজেপি কর্মিদের অভিযোগ, তৃণমূল বাঙলার মনিষীদের নিয়ে রাজনীতি করছে। অথচ ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের মত একজন মনীষী ও শিক্ষাবিদ অবহেলায় রয়েছেন। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যার জন্য হুগলির চুঁচুড়ায় থেকে গিয়েছিলেন। তাঁর লেখায় অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন স্বয়ং মাইকেল মধুসূদন দত্ত। শুধু তাই নয়, তিনি তাঁর সহপাঠী ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২১ ফেব্রুয়ারি ভাষা দিবসে দেখা যায় বাঙালী অস্মিতাকে জাগাতে শাসক দলের নেতানেত্রীরা বিভিন্ন মনিষীদের ছবি নিয়ে পথে নেমে পড়েছেন। অথচ ভাষার প্রাণপুরুষ ভূদেব মুখোপাধ্যায়কে শ্রদ্ধা জানানো গেলো না। বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলা সভাপতি গৌতম চট্টোপাধ্যায় এ বিষয়ে বলেন, ওদের মনিষী হল মমতা আর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাই অন্য মনিষীদের নিয়ে তাদের কোন মাথাব্যাথা নেই। চুঁচুড়ার তৃনমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার পাল্টা বলেন, ভূদেব মুখোপাধ্যায়ের জন্মদিনে আমরাই পরিষ্কার করি। বিজেপির অভিযোগ নিয়ে কিছু বলার নেই। ওদের অভিযোগের উত্তর দেওয়া মানেই সময় নষ্ট করা।








