বসিরহাটে দলবদল ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ, তৃণমূলের সভায় বহু নেতার যোগদান
নতুন পয়গাম, উত্তর ২৪ পরগণা: বসিরহাট রাজনৈতিক দিক থেকে তাৎপর্যপূর্ণ এক ঘটনার সাক্ষী থাকল রবিবার। সকাল প্রায় ১১টা নাগাদ তৃণমূল কংগ্রেস–এর বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে একযোগে বহু নেতা ও জনপ্রতিনিধি শাসকদলে যোগ দেন। এই যোগদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য মুখ ছিলেন বসিরহাট দক্ষিণ বিধানসভার প্রাক্তন বিধায়ক ও প্রাক্তন ফুটবলার দিপেন্দু বিশ্বাস। তাঁর সঙ্গে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস–এর এক ব্লক সভাপতি আব্দুল কাদের সরদার, ভারতীয় জনতা পার্টি–র নেতা কাবাব সরদার এবং বিভিন্ন দল থেকে মোট ২৭ জন জনপ্রতিনিধি, পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও স্থানীয় নেতৃত্ব যোগ দেন। তাঁদের সঙ্গে শতাধিক কর্মী-সমর্থকও উপস্থিত ছিলেন।
যোগদানের পর দিপেন্দু বিশ্বাস বলেন, রাজ্যের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে অনুপ্রাণিত হয়েই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং মানুষের পাশে থাকার রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে চান। অন্যান্য নবাগত নেতারাও জানান, বিভাজনের রাজনীতির বদলে শান্তি ও উন্নয়নমুখী রাজনীতির অংশ হতেই তাঁরা এই দলে যোগ দিয়েছেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন বসিরহাট সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দেম লিটন। তিনি বলেন, বিভিন্ন দল থেকে আসা নেতৃত্ব সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করবে এবং বসিরহাটে উন্নয়নের ধারাকে ত্বরান্বিত করাই তাঁদের লক্ষ্য। বৈঠক শেষে নবাগতদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন বসিরহাট ১ নম্বর ব্লক সভাপতি সারিকুল মন্ডল সহ একাধিক বিধায়ক ও জেলা নেতৃত্ব।
তবে এই যোগদানকে ঘিরে বিরোধী শিবিরে তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, প্রশাসনিক চাপ ও রাজনৈতিক প্রলোভনের মাধ্যমে দলবদল ঘটানো হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রকৃত জনসমর্থন কমে যাওয়ায় শাসকদল এ ধরনের কর্মসূচির আশ্রয় নিচ্ছে। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনপ্রতিনিধিদের দলে টানা রাজনীতির নৈতিকতাকে ক্ষুণ্ণ করছে। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, উন্নয়নের রাজনীতিতে আস্থা রেখেই মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে দলে যোগ দিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই যোগদান বসিরহাটে তৃণমূলের সাংগঠনিক শক্তি আরও মজবুত করেছে এবং আগামীর রাজনৈতিক লড়াইকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে।








