বেআইনি মাটির গাড়ির ধাক্কায় ২ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু
নতুন পয়গাম, ২১ ফেব্রুয়ারি: বসিরহাট মহকুমার অন্তর্গত মাটিয়া থানার রাজাপুর এলাকায় ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন দুই তরতাজা যুবক। বেআইনি ভাবে চলাচল করা মাটিবাহী টলি বা মাটির গাড়ির বেপরোয়া ধাক্কায় এক মুহূর্তে নিভে গেল দুটি পরিবারের আশা-ভরসার প্রদীপ। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে রাজাপুর চাঁপাপুকুর এলাকার দুই যুবক আকিপুর দিক থেকে মোটরবাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ঠিক সেই সময় বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে ছুটে আসা একটি ভারী মাটির টলি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁদের বাইকের ওপর সজোরে ধাক্কা মারে। সংঘর্ষ এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, ঘটনাস্থলেই এক যুবকের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অপর যুবককে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকেও মৃত ঘোষণা করেন। এক যুবকের নাম সেলিম মন্ডল।
এই দুর্ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়তেই শোকের সঙ্গে সঙ্গে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের চোখের সামনে দিয়ে বেআইনি ভাবে মাটির গাড়ি চলাচল করছে। দিনের আলো থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বেপরোয়া গতিতে এই ভারী গাড়িগুলি গ্রামের রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। দুই যুবকের মৃত্যুর পর পুলিশের গাফিলতির অভিযোগ তুলে গ্রামবাসীরা খোলাপোতা মালঞ্চ রোড অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যে এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘক্ষণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের দাবি, অবিলম্বে বেআইনি মাটির গাড়ি বন্ধ করতে হবে এবং দায়ী পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিক্ষোভকারীদের একজন শহীদ সরদার বলেন, “পুলিশ সব জানে, তবুও চুপ করে থাকে। আজ দু’জনের প্রাণ গেল, কাল আবার কার হবে কে জানে।” নিহত যুবকের বাবা আবেদ আলী মন্ডল কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমার ছেলে নিরাপদে বাড়ি ফিরছিল। পুলিশের অবহেলার জন্য আজ আমার ছেলে আর নেই।” এই ঘটনায় গোটা এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে উঠছে একের পর এক প্রশ্ন– কবে বন্ধ হবে বেআইনি মাটির গাড়ির দাপট, আর কত প্রাণ গেলে নড়বে প্রশাসন?








