কনকচূড় ধানের চাল পেল জাতিসংঘের ঐতিহ্য স্বীকৃতি, খুশির হাওয়া জয়নগর জুড়ে
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়নগর: গোবিন্দভোগ ও তুলাইপঞ্জির পাশাপাশি এবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার কনকচূড় ধানের চালও পেল জাতিসংঘ-এর ঐতিহ্য স্বীকৃতি। এই স্বীকৃতিতে উচ্ছ্বসিত কৃষক, মোয়া ব্যবসায়ী থেকে প্রশাসনিক মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্মান ভবিষ্যতে জয়নগরের ঐতিহ্যবাহী মোয়া শিল্পের প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। জয়নগর, ময়দা, নিমপীঠ, রায়দিঘি, কুলপি, মন্দিরবাজার, কুলতলি ও কাশিনগর এলাকায় ব্যাপক পরিমাণে কনকচূড় ধানের চাষ হয়। এই ধানের চালের তুলনায় বেশি ব্যবহৃত হয় এর খই, যা বিশ্বখ্যাত জয়নগরের মোয়ার প্রধান উপাদান। সুবাসের জন্যই এই খইয়ের আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে দেশ-বিদেশে।
তবে স্বীকৃতির আনন্দের মাঝেই উঠে এসেছে উদ্বেগের সুর। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, অতিরিক্ত রাসায়নিক ব্যবহারের ফলে ধানের স্বাভাবিক গন্ধ কমে যাচ্ছে। জয়নগরের মোয়া ব্যবসায়ী রাজেশ দাস বলেন, “কনকচূড় খইয়ের আসল আকর্ষণ তার গন্ধ, কিন্তু এখন সেই সুবাস আগের মতো নেই।” বহড়ুর ব্যবসায়ী গণেশ দাস-এর কথায়, বেশি ফলনের আশায় কিছু ক্ষেত্রে রাসায়নিক ব্যবহারের পাশাপাশি যন্ত্রে খই ভাজার প্রবণতাও বাড়ছে, যা গুণগত মানে প্রভাব ফেলছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাজারে চাহিদা থাকলেও নানা কারণে কনকচূড় ধানের চাষ তুলনামূলক কম। এই ধান চাষের জন্য উঁচু জমি প্রয়োজন, ফলে অধিকাংশ কৃষক বড় জমিতে অন্য ধান এবং অল্প জমিতে কনকচূড় চাষ করেন। ময়দা এলাকার চাষি সুশান্ত মণ্ডল ও ইলিয়াস মোল্লা জানান, দাম ভালো মিললেও বড় আকারে চাষে লাভ তুলনামূলক কম।
এই পরিস্থিতিতে জৈব পদ্ধতিতে চাষের ওপর জোর দিচ্ছে নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম-এর কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র। কেন্দ্রের কৃষি বিশেষজ্ঞ ড. সোমনাথ সরদার বলেন, “এবার আমরা জৈব উপায়ে কনকচূড় ধানের চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে।” চাষি ও ব্যবসায়ী মহলের দাবি, আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির পর প্রশাসনের উচিত এই ধানের চাষ, সংরক্ষণ ও বিপণনে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া। তাঁদের আশা, যথাযথ পরিকল্পনা হলে কনকচূড় ধান শুধু ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবেই নয়, ভবিষ্যতে এলাকার অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবেও প্রতিষ্ঠা পাবে।








