সোনার প্রতিমার প্রলোভনে ১১ লক্ষ টাকার প্রতারণা
নতুন পয়গাম, উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, বারুইপুর: সোশ্যাল মিডিয়ায় ‘জমির নিচ থেকে সোনার মূর্তি উদ্ধার’- এমন প্রলোভন দেখিয়ে এক হোটেল ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার করা হল ফারুক বৈদ্য নামে এক যুবককে। অভিযুক্তের বাড়ি বারুইপুর থানা এলাকার চাঁদোখালি অঞ্চলে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কসবা এলাকার বাসিন্দা হোটেল ব্যবসায়ী ধরমবীর সাউ সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি বিজ্ঞাপন দেখে প্রতারকের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। বিজ্ঞাপনে দাবি করা হয়েছিল জমির নিচ থেকে সোনার প্রতিমা উদ্ধার হয়েছে। প্রথমে একটি প্রতিমা পরীক্ষা করিয়ে দেখানো হলে তাতে সোনার উপস্থিতির ইঙ্গিত পাওয়া যায় বলে অভিযোগ। এতে বিশ্বাস জন্মালে ধাপে ধাপে মোট ১১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা দেন তিনি। বিনিময়ে তাঁর হাতে তুলে দেওয়া হয় সোনার গণেশ ও লক্ষ্মীর মূর্তি এবং একটি পূজার ঘণ্টা।
পরে সন্দেহ হওয়ায় সব প্রতিমা একত্রে পরীক্ষা করালে জানা যায়, সেগুলি আসল সোনা নয়। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝে তিনি থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। এরপর অভিযুক্ত আবার ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে যোগাযোগ করে আরও একটি মূর্তি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাকে কৃষ্ণমোহন রেল স্টেশন এলাকায় ডেকে পাঠায়। পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী সতর্ক হয়ে সেখানে গেলে অভিযুক্তকে চিহ্নিত করে স্থানীয়দের সহায়তায় আটক করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ পৌঁছে ফারুক বৈদ্যকে গ্রেফতার করে।
ধৃতের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি মূর্তি, একটি পূজার ঘণ্টা এবং নগদ ২ লক্ষ ৬৩ হাজার টাকা। পুলিশের অনুমান, এই ঘটনার সঙ্গে বড় কোনো প্রতারণা চক্র জড়িত থাকতে পারে এবং পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার এ ধরনের প্রলোভনমূলক বিজ্ঞাপনে বিশ্বাস না করার জন্য সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ।








