মাটি, মানুষ ও সংগঠন: রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন
নতুন পয়গাম, এম নাজমুস সাহাদাত: মালদহের চাঁচলের রোনথোল গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা এক সাধারণ পরিবারের সন্তান আজ জেলা রাজনীতির পরিচিত মুখ। প্রায় পঁচিশ বছরেরও বেশি সময় ধরে ছাত্ররাজনীতি, পঞ্চায়েত প্রশাসন, সমবায় নেতৃত্ব এবং দলীয় সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলে যিনি নিজেকে গড়ে তুলেছেন তৃণমূল স্তরের এক কর্মী-নেতা হিসেবে তিনি রাবিউল ইসলাম। তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় কেবল পদে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ, গ্রামীণ উন্নয়নমুখী ভাবনা এবং সংগঠনকে মজবুত করার ধারাবাহিক প্রয়াস তাঁকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে। ১৯৯৬ সালে ছাত্ররাজনীতির মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের সূচনা। ব্লক ছাত্র পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি নেতৃত্বের প্রাথমিক পাঠ নেন। পরে চাঁচল কলেজ ছাত্র পরিষদের সহকারী সাধারণ সম্পাদক ও মহকুমা ইউনিটের সভাপতি হিসেবে কাজ করতে গিয়ে সংগঠন পরিচালনা, মতভেদ সামাল দেওয়া এবং গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখার অভিজ্ঞতা অর্জন করেন। ছাত্রদের সমস্যা সমাধান, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ঐক্য গড়ে তোলার মধ্য দিয়ে তিনি ভবিষ্যতের বৃহত্তর রাজনৈতিক দায়িত্বের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করেন। ২০০১ থেকে ২০০৮ সাল তাঁর রাজনৈতিক জীবনে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বরই অঞ্চল কংগ্রেস কমিটির কনভেনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে তিনি মূল ধারার রাজনীতিতে সক্রিয় হন। গ্রাম ও বুথ স্তরে সংগঠন বিস্তার, কর্মীদের সমন্বয় এবং স্থানীয় সমস্যায় সরাসরি হস্তক্ষেপ এসব ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
হরিশ্চন্দ্রপুর ব্লক-১ সংখ্যালঘু সেলের সভাপতি হিসেবে প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সরকারি প্রকল্পের সুফল প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়াকে অগ্রাধিকার দেন। এই সময়েই তিনি উপলব্ধি করেন, রাজনীতি মানে কেবল নির্বাচনী লড়াই নয়; মানুষের জীবনের সঙ্গে যুক্ত থাকা। ২০০৮ সালে বরই গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁর প্রশাসনিক অভিজ্ঞতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। সড়ক, পানীয় জল, স্যানিটেশন, সেচব্যবস্থা গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে তিনি সক্রিয় নজরদারি করেন। পাশাপাশি রোনথোল সমবায় কৃষি উন্নয়ন সমিতির সম্পাদক হিসেবে কৃষকদের ঋণসুবিধা ও ভর্তুকি প্রাপ্তিতে সহায়তা করেন। সমবায়ের মাধ্যমে কৃষকদের আর্থিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধির উদ্যোগ তাঁর নেতৃত্বকে আরও বাস্তবমুখী করে তোলে। জেলা স্তরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় যুক্ত হয়ে প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও সময়ানুবর্তিতাকে গুরুত্ব দেন। ২০১৩ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত তার পরিবার থেকে পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য ও বিরোধী দলনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিরোধী আসনে থেকেও জনস্বার্থের প্রশ্নে সোচ্চার থাকা, প্রশাসনিক ত্রুটি তুলে ধরা এবং উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছতা দাবি করা এসব ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ছিলেন। একই সময়ে ব্লক স্তরে কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি হিসেবে সাংগঠনিক দায়িত্ব সামলান। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক, এজেন্ট ও প্রার্থী হিসেবে কাজ করার অভিজ্ঞতা তাঁকে রাজনৈতিক কৌশল ও পরিকল্পনায় দক্ষ করে তোলে। পেমা ভক্তিপুর কেএস হাই মাদ্রাসার পরিচালন সমিতির সদস্য হিসেবে শিক্ষাক্ষেত্রের উন্নয়নেও ভূমিকা রাখেন।
২০১৯ সালে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবনে নতুন অধ্যায় শুরু হয়। লোকসভা নির্বাচনে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে কাজ এবং চাঁচল বিধানসভায় “দিদি কে বলো” কর্মসূচির সমন্বয়কারী হিসেবে মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ তাঁর নেতৃত্বকে আরও বিস্তৃত করে। বর্তমানে তিনি মালদহ জেলা মাদার তৃণমূল কংগ্রেস কমিটির সাধারণ সম্পাদক এবং জেলা পরিষদের সদস্য ও কৃষি-সমবায় কর্মাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কৃষি উন্নয়ন, সেচ প্রকল্প, সমবায় ব্যাংকিং ও কৃষক কল্যাণমূলক প্রকল্পের তদারকি তাঁর কাজের মূল ক্ষেত্র। রাবিউল ইসলামের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তৃণমূল স্তরে সংগঠন মজবুত করা। বুথভিত্তিক কাঠামো শক্তিশালী করা, নির্বাচনী প্রচারে সমন্বয় এবং কৃষি ও সমবায় খাতে স্বচ্ছতা বজায় রাখা তাঁর উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ। তিনি যুব ও মহিলা কর্মীদের রাজনীতিতে যুক্ত করতে গুরুত্ব দেন এবং নতুন নেতৃত্ব তৈরিকে ভবিষ্যতের ভিত্তি হিসেবে দেখেন। পেশায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সমাজকর্মী হিসেবে তিনি সমাজের নানা স্তরের মানুষের সঙ্গে যুক্ত। সহজ-সরল জীবনযাপন, শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা তাঁর রাজনৈতিক দর্শনের মূল ভিত্তি। অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও মানুষের আস্থা অর্জনই তাঁর লক্ষ্য। তিনি বিশ্বাস করেন, রাজনীতি তখনই সফল যখন তা মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে। মালদহের গ্রামাঞ্চলে মানুষের সমস্যা শোনা থেকে প্রশাসনিক সমাধানের পথ খোঁজা এই ধারাবাহিক প্রয়াসই তাঁর পরিচয় গড়ে তুলেছে। ছাত্ররাজনীতির হাতেখড়ি থেকে জেলা স্তরের দায়িত্ব পর্যন্ত রাবিউল ইসলামের পথচলা এক কথায় জনসেবার প্রতিশ্রুতির গল্প। মানুষের আস্থা ও উন্নয়নের লক্ষ্যে তাঁর এই যাত্রা আগামী দিনেও অব্যাহত থাকবে এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর সহকর্মীদের।








