হুমায়ুন কবীরের বেয়াই বাড়ির ১১ কোটির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের পথে পুলিশ
নতুন পয়গাম, মুর্শিদাবাদ: রাজনীতির উত্তাল আবহে ফের চাপে হুমায়ুন কবীরের পরিবার। মাদক মামলায় অভিযুক্ত তাঁর মেয়ের শ্বশুর ও শ্বশুরের ভাইয়ের বিরুদ্ধে বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করল মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। মোট ১০ কোটি ৭৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ মিলেছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। গতবছর মার্চ মাসে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ। অভিযুক্ত পরিবারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। আদালতের নির্দেশ পাওয়ার পর সম্পত্তি চিহ্নিতকরণের কাজ শুরু করে পুলিশ।
সোমবার অভিযুক্ত পরিবারের বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সূত্রের খবর, মুর্শিদাবাদ জেলার অন্তত ১০টি জায়গায় এবং লালগোলা-সহ মোট ১৭টি স্থানে ওই পরিবারের সম্পত্তির হদিশ মিলেছে। এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রস্তুতি চলছে।
জেলা পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, “যাঁরা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত এবং সেই অর্থ অন্যত্র বিনিয়োগ করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মুর্শিদাবাদে কোনভাবেই মাদক বা মাদকজাত অবৈধ ব্যবসা চলতে দেওয়া হবে না।”
এদিকে এই ঘটনাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে দাবি করেছেন হুমায়ুন কবীরের মেয়ে নাজমা সুলতানা। তাঁর অভিযোগ, “আমার বাবাকে মাথানত করাতে না পেরে আমাকে এবং আমার শ্বশুরবাড়িকে নিশানা করা হচ্ছে। এটা পুরোপুরি রাজনৈতিক চক্রান্ত।”
হুমায়ুন-কন্যার দাবি, তাঁর শ্বশুর কোনও বেআইনি কাজে যুক্ত নন এবং তাঁর স্বামী একজন ব্যবসায়ী। অন্যদিকে বিজেপির দাবি, মাদক কারবার তৃণমূলের অন্দরে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। বিজেপির বক্তব্য, হুমায়ুন কবীর দল ছাড়ার পর বিষয়টি সামনে এনে লোক দেখানো পদক্ষেপ করা হচ্ছে।
তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে। দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “এটা পুরনো মামলা, আদালতের নির্দেশেই পদক্ষেপ হচ্ছে। অনেকদিন ধরেই বিষয়টি চলছে। এখন ভিকটিম কার্ড খেলে কোনও লাভ নেই।” সব মিলিয়ে, মাদক মামলা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্তিকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদের রাজনীতিতে উত্তাপ আরও বাড়ল।








