ভারত–মালয়েশিয়ার বড় পদক্ষেপ সস্তা ও দ্রুত সীমান্ত-পার লেনদেনের পথে
নতুন পয়গাম: দুই দিনের মালয়েশিয়া সফর সেরে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেখানে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি হয়। তার মধ্যে অন্যতম হল সীমান্ত-পার ডিজিটাল লেনদেনকে আরও সস্তা, দ্রুত ও সহজ করতে ভারত ও মালয়েশিয়া যৌথভাবে অংশীদারিত্বকে সমর্থন জানিয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য হল দুই দেশের মধ্যে রিয়েল-টাইম পেমেন্ট ব্যবস্থা জোরদার করা, যাতে ব্যক্তি ও ব্যবসায়িক লেনদেনের খরচ কমে এবং নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল পেমেন্ট পরিকাঠামো গড়ে ওঠে।
ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অব ইন্ডিয়া এবং মালয়েশিয়ার পেমেন্ট নেটওয়ার্ক সংস্থা PayNet ইতিমধ্যেই নিজ নিজ দেশে ডিজিটাল লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। NPCI পরিচালিত ইউনিফায়েড পেমেন্টস ইন্টারফেস আজ ভারতের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার মেরুদণ্ড, অন্যদিকে PayNet মালয়েশিয়ায় DuitNow-এর মতো রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেম পরিচালনা করে। এই দুই প্ল্যাটফর্মের সংযোগ ঘটলে, দুই দেশের নাগরিকরা খুব সহজেই মোবাইলের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক লেনদেন করতে পারবেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই টাই-আপ কার্যকর হলে প্রবাসী ভারতীয়, পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবেন। বর্তমানে সীমান্ত-পার টাকা পাঠাতে ব্যাংক চার্জ, এক্সচেঞ্জ রেট মার্জিন এবং দীর্ঘ প্রসেসিং সময় বড় বাধা। NPCI–PayNet সংযোগের মাধ্যমে এই খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং লেনদেনের সময়ও মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে।
ভারত ও মালয়েশিয়া উভয় দেশের সরকারই ডিজিটাল অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে। এই উদ্যোগ সেই বৃহত্তর লক্ষ্যকেই সমর্থন করে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা বাড়বে, মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা কমবে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও জোরদার হবে। বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসার ক্ষেত্রে এটি নতুন সুযোগ তৈরি করবে, কারণ কম খরচে আন্তর্জাতিক লেনদেন করা সহজ হবে।
এই অংশীদারিত্ব আসিয়ান অঞ্চলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর ফলে ভবিষ্যতে ভারত এবং অন্যান্য দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশের মধ্যে একই ধরনের ডিজিটাল পেমেন্ট সংযোগ গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত হবে। ইতিমধ্যেই ভারত সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরবের মতো দেশের সঙ্গে UPI-ভিত্তিক ক্রস-বর্ডার পেমেন্ট চালু করেছে। মালয়েশিয়ার সঙ্গে এই উদ্যোগ সেই ধারাবাহিকতাকেই আরও শক্তিশালী করবে।
নিরাপত্তা ও তথ্য সুরক্ষার দিকটিও এই চুক্তিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। দুই দেশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা নিশ্চিত করতে চাইছে যে লেনদেন হবে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপদ এবং গ্রাহকের তথ্য সুরক্ষিত থাকবে। একই সঙ্গে মুদ্রা বিনিময় সংক্রান্ত স্বচ্ছ নীতি অনুসরণ করা হবে, যাতে গ্রাহকের উপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
সব মিলিয়ে, এই পার্টনারশিপ ভারত ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ডিজিটাল আর্থিক সহযোগিতার এক নতুন অধ্যায় খুলে দিচ্ছে। সস্তা, দ্রুত ও সহজ সীমান্ত-পার পেমেন্ট ব্যবস্থা শুধু দুই দেশের নাগরিকদের জীবন সহজ করবে না, বরং আঞ্চলিক ডিজিটাল সংযোগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতাকেও নতুন গতি দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞদের অনেকেই।








