হুমায়ুন কবিরের মন্তব্যে তীব্র বিতর্ক, শিলিগুড়িতে সাংবাদিক সম্মেলনে কড়া অবস্থান AIMO-এর
নতুন পয়গাম, শিলিগুড়ি: মুর্শিদাবাদ জেলার ভরতপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিদ্রোহী তৃণমূল কংগ্রেস বিধায়ক হুমায়ুন কবিরকে ঘিরে সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই প্রেক্ষিতে শুক্রবার শিলিগুড়ি জার্নালিস্টস’ ক্লাবে এক সাংবাদিক সম্মেলনে কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করল অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন (AIMO)। সংবাদ সম্মেলনে AIMO-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক নাসির আহমেদ অভিযোগ করেন, কলকাতা পুরসভার মেয়র ও রাজ্যের পৌর বিষয়ক এবং নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমকে উদ্দেশ্য করে হুমায়ুন কবির যে মন্তব্য করেছেন, তা শুধু অশালীন নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনক ও বিভাজনমূলক। তাঁর দাবি, ওই বিধায়ক ব্যক্তিগত আক্রমণের সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে ফিরহাদ হাকিমের জন্মপরিচয়, বাবা-মায়ের ধর্মীয় পরিচয় ও পারিবারিক প্রসঙ্গ টেনে এনে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। এমনকি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেও আপত্তিকর পারিবারিক সম্পর্কের ইঙ্গিত দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি।
এই ধরনের মন্তব্যকে “সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য” আখ্যা দিয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ বলেন, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির কাছ থেকে এমন ভাষা ও আচরণ গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী। তাঁর বক্তব্য, কোনও বিধায়কেরই অধিকার নেই মন্ত্রিসভার সদস্য, মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও ব্যক্তিকে নিয়ে অশালীন ভাষায় আক্রমণ করার কিংবা তাঁদের ধর্ম, পরিবার বা ব্যক্তিগত পরিচয় টেনে এনে মন্তব্য করার। এছাড়াও হুমায়ুন কবিরের আরেকটি কথিত মন্তব্য নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন AIMO চেয়ারম্যান। তাঁর অভিযোগ, ওই বিধায়ক প্রকাশ্যে বলেছেন যে ফিরহাদ হাকিমকে মুর্শিদাবাদে ঢুকতে দেওয়া হবে না এবং তিনি সেখানে গেলে বাড়ি ফিরতে পারবেন না। অধ্যাপক আহমেদের মতে, এই বক্তব্য সরাসরি ভয় দেখানো এবং গুরুতর হুমকির শামিল। একজন জনপ্রতিনিধির মুখে এমন দম্ভপূর্ণ ও ভীতিপ্রদর্শনমূলক মন্তব্য আইনশাসন ও গণতন্ত্রের জন্য মারাত্মক হুমকি।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অধ্যাপক নাসির আহমেদ ঘোষণা করেন, হুমায়ুন কবিরের মন্তব্য ও আচরণের বিরুদ্ধে অল ইন্ডিয়া মাইনরিটি অর্গানাইজেশন রাজপথে নামবে। তিনি জানান, সংগঠনের পক্ষ থেকে শীঘ্রই প্রতিবাদ আন্দোলন শুরু করা হবে এবং স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হবে যে গণতান্ত্রিক সমাজে কোনওভাবেই হুমকি, উসকানি বা দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ বরদাস্ত করা হবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিধায়কের বিরুদ্ধে অবিলম্বে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ ও জবাবদিহির দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্ক ও উত্তেজনা ছড়িয়েছে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।







