বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের বার্ষিক সম্মেলন
নতুন পয়গাম, কলকাতা: বঙ্গীয় সংখ্যালঘু পরিষদের উদ্যোগে সোমবার মৌলালি যুব কেন্দ্রে সংগঠনের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে এক গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারের বিষয় ছিল— “স্বাধীনোত্তর ভারতে সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আর্থ-সামাজিক অবস্থার বিশ্লেষণ”। অনুষ্ঠানের সূচনায় কুরান, বাইবেল, গীতা ও গুরুগ্রন্থ সাহিব পাঠের মাধ্যমে সর্বধর্মের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। এরপর অতিথি বরণ ও দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সভার আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়। সভাপতি হিসেবে আসন গ্রহণ করেন মাওলানা মোজাফফর হোসেন। মঞ্চ পরিচালনা করেন এ কে এম গোলাম মর্তুজা এবং সংগঠনের কার্যকরী সভাপতি শিক্ষক আব্দুর রউফকে সভা সঞ্চালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। স্বাগত ভাষণ দেন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক জাহান আলী পুরকাইত।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন আইএএস ও রাজ্য প্রধান নির্বাচন কমিশনার জহর সরকার। তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সাম্প্রদায়িক নীতির সমালোচনা করে তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং রাজ্য সরকারের দুর্নীতি ও নীতিহীনতার বিষয়েও পরিসংখ্যানের মাধ্যমে বক্তব্য রাখেন। প্রখ্যাত আইনজীবী মুন্সি আবুল কাশেম, প্রাক্তন বিচারপতি ও সংখ্যালঘু বোর্ডের চেয়ারম্যান এন্তাজ আলী শাহ, শিখ সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ও প্রাক্তন বিমানবাহিনী কর্মী তারসেম সিংসহ অন্যান্য বক্তারা আলোচ্য বিষয়ের উপর বিশদ আলোচনা করেন। তাঁরা মুসলিম, দলিত, আদিবাসী, শিখ ও বৌদ্ধসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ স্বাধীন ভারতে প্রকৃত ন্যায় ও অধিকার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন। প্রশ্নোত্তর পর্বে উপস্থিত দর্শকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ লক্ষ্য করা যায়।
দ্বিতীয় পর্বে বক্তব্য রাখেন শিক্ষারত্ন মাওলানা মোফাক্কার হোসেন, বেলুড় মঠের প্রাক্তন মহারাজ পরমানন্দজি, ফাদার সঞ্জীব দাস, বন্দি মুক্তি কমিটির ছোটন দাস প্রমুখ। অনুষ্ঠানে সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য বিশপ অগাস্টাইন সুকুমার ও মহ খলিল সাহেবকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এই পর্ব পরিচালনা করেন আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজি আলফ্রেড। সভার শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বরিষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুর রহমান। এদিনের অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি ছিল সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ও আল মানার মিশনের কর্ণধার মাওলানা আনোয়ার হোসেন কাসেমী, অ্যাডভোকেট আসিফ রেজা আন্সারী, সংগঠনের কর্মকর্তা শ্যামল ঘড়ুই, সহ-সভাপতি ও প্রাক্তন জেলা ডিআই নজরুল হক সিপাই, কোষাধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম, অধ্যাপিকা সালেহা, মাও নুরুল ইসলাম, মাস্টার আ. হান্নান, অধ্যাপিকা সুমনা ভট্টাচার্য, রেজাউল ইসলাম, ছাত্রনেতা আ. কাহার, মারিয়া ঘড়ুই, মিঠু মামুদা, মাস্টার আ. অদুদ প্রমুখ। সর্বধর্মের প্রতিনিধিত্ব ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে সভা সফলভাবে সম্পন্ন হয়।








