সন্দেশখালি ব্লকে প্রায় ৬ হাজার মানুষের নাম ডি ভোটার করার অভিযোগ
নতুন পয়গাম, নিজস্ব প্রতিবেদক, সন্দেশখালি: সন্দেশখালি ১ নম্বর ব্লকে প্রায় ছয় হাজার মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে ডি করা হয়েছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে সন্দেশখালি ১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির কার্যালয়ে এসে সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিকের কাছে ডেপুটেশন দেয় সারা বাংলা সংখ্যালঘু যুব ফেডারেশন। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ সংগঠনের সদস্যরা মিছিল করে বিডিও অফিসে পৌঁছন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড। ডেপুটেশন ঘিরে পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মতো। যে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বিডিও অফিস চত্বরে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনী। ডেপুটেশনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সম্পাদক মাওলানা কামরুজ্জামান, সংগঠনের সদস্য শিক্ষক আলী আকবর, সদস্য আক্তার হোসেন সহ একাধিক ইমাম ও মোয়াজ্জেমরা।
সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মাওলানা কামরুজ্জামান সরাসরি অভিযোগ করেন যে এই নাম বাদ দেওয়ার পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি-র প্ররোচনায় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। তাঁর কথায়, “বিশেষ সংশোধনের নামে গরিব, পরিশ্রমী মানুষদের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এটা গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত।” তবে এদিন ডেপুটেশনের সময় ব্লক সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক উপস্থিত না থাকায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন কামরুজ্জামান। তিনি বলেন, “হাজার হাজার মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে এত বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে অথচ দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক অফিসে নেই—এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং অবহেলার পরিচয়।” সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়—যাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে তাদের অবিলম্বে পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করতে হবে এবং কোনও প্রকৃত নাগরিককে হয়রানি করা চলবে না। দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন নেতারা। ডেপুটেশন শেষে শান্তিপূর্ণভাবেই কর্মসূচি সমাপ্ত হয়, তবে গোটা এলাকা জুড়ে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।








