সরকারি জমি দখলের অভিযোগ, পুলিশের নীরবতা ঘিরে প্রশ্ন!
নতুন পয়গাম, প্রীতিময় সরখেল, ধূপগুড়ি: ধূপগুড়ি শহরে সরকারি জমি দখলের যেন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে এমনই ছবি ধরা পড়ছে স্টেশন মোড় এলাকায়। ধূপগুড়ি থেকে জলপাইগুড়িগামী এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮ নম্বর সড়কের দু’ধারে অবৈধভাবে নয়ানজুলি ভরাট করে একের পর এক দোকানঘর গড়ে উঠছে। আশ্চর্যের বিষয়, সবই হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনে। স্টেশন মোড় সংলগ্ন এলাকায় একটি পেট্রোল পাম্পের পাশেই সরকারি জমি ও নয়ানজুলি দখল করে তৈরি হচ্ছে দোকানঘর। ওই স্থান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে পুলিশের চেকপোস্ট, যেখানে দিনরাত পুলিশি পাহারা থাকে। তা সত্ত্বেও মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশিকাকে কার্যত অমান্য করে চলছে সরকারি জমি দখল ও অবৈধ নির্মাণ।
এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে সব দেখেও কেন নীরব পুলিশ প্রশাসন? একই সঙ্গে ভূমিকা নিয়ে প্রশ্নের মুখে জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও এশিয়ান হাইওয়ে ৪৮-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাও। বিরোধীদের অভিযোগ, এই অবৈধ দখলের পিছনে শাসক দলের কিছু নেতার মদত রয়েছে বলেই প্রশাসন কার্যত নীরব দর্শকের ভূমিকা নিচ্ছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওভারব্রিজ সংলগ্ন এলাকা থেকে ঠাকুরপাঠ পর্যন্ত রাস্তার দু’ধারে সরকারি নির্দেশিকাকে তোয়াক্কা না করে সরকারি জমি দখল চলছে। এমনকি একাধিক নয়ানজুলিও সম্পূর্ণভাবে ভরাট করে ফেলা হয়েছে, যা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে এলাকার বাস্তুতন্ত্র।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী যেখানে ‘ জল ধরো, জল ভরো ’-সহ একাধিক প্রকল্পের মাধ্যমে জল সংরক্ষণ ও জলাভূমি রক্ষার উপর জোর দিয়েছেন, সেখানে ধূপগুড়ি শহরে একের পর এক নয়ানজুলি ভরাট ও জলাভূমি দখলের ঘটনা সেই উদ্যোগকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে। এলাকার বাসিন্দা মিতালী রায় বলেন,”পুলিশ প্রশাসনের চোখের সামনেই এই অবৈধ কাজ চলছে। আমরা প্রতিবাদ করতে গেলে হামলার আশঙ্কা থাকে। সমস্যায় পড়তে হতে পারে ভেবে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানানোর সাহস পাই না।” বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক চন্দন দত্ত বলেন,”এই সমস্ত অবৈধ কাজের পিছনে শাসক দলের মদত রয়েছে বলেই প্রশাসনের আধিকারিকরা সব দেখেও চুপ করে আছেন। ধূপগুড়িতে এখন বেনিয়মটাই নিয়মে পরিণত হয়েছে।”
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক রাজেশ কুমার সিং বলেন,”দল কোনওভাবেই অবৈধ কাজকে সমর্থন করে না। কোনও নেতা বা কর্মী যদি এই ধরনের কাজে যুক্ত থাকে, তার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। প্রশাসনকে বলব, আইন অনুযায়ী রং না দেখে ব্যবস্থা নিতে।”








