জেল থেকে মুক্তি পেয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়ালেন বিভাস অধিকারী, তৃণমূলে ফেরার জল্পনা তুঙ্গে
নতুন পয়গাম, মোহাম্মদ সানাউল্লা, নলহাটি: জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেই বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হলেন বিভাস চন্দ্র অধিকারী। শুক্রবার নলহাটিতে ফিরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার বলে দাবি করেন। তবে পুরোনো দল তৃণমূল কংগ্রেসে পুনরায় যোগদান করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত দেননি, যার ফলে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা আরও বেড়েছে। বিভাস অধিকারীর অভিযোগ, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজ্যে কিছু করতে না পেরে বিজেপি নিজেদের শাসিত রাজ্য উত্তরপ্রদেশে মিথ্যা মামলায় আমাকে, আমার ছেলেসহ ছ’জনকে গ্রেফতার করিয়েছে। আমি রাজনৈতিক হিংসার শিকার।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই বিজেপির বিরুদ্ধে কার্যত লড়াইয়ের ঘোষণা করেন তিনি। তবে সেই লড়াই তিনি তাঁর গড়া সংগঠন সারা ভারত আর্য মহাসভার ব্যানারে চালাবেন নাকি অন্য কোনও পথে এগোবেন, সে বিষয়ে আপাতত ধোঁয়াশা বজায় রাখেন।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের প্রায় জন্মলগ্ন থেকেই বিভাস অধিকারী নলহাটি-২ ব্লকের সভাপতি ছিলেন। শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় তাঁর নাম জড়ানোর পর কলকাতা ও শীতলগ্রামের কৃষ্ণপুরে তাঁর বাড়িতে সিবিআই তল্লাশি চালায়। যদিও ওই মামলায় সিবিআইয়ের হাতে গ্রেফতার হননি তিনি। পরবর্তীতে গত বছরের আগস্ট মাসে উত্তরপ্রদেশে প্রতারণার অভিযোগে বিভাস অধিকারী-সহ মোট ছ’জনকে গ্রেফতার করে নয়ডার ফেজ থ্রি থানার পুলিশ। অভিযোগ ছিল, আন্তর্জাতিক পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থার নামে ভুয়ো থানা খুলে প্রতারণা করা হয়েছে। দীর্ঘ ছ’মাস পর চারজন জামিনে মুক্তি পেলেও এখনও দু’জন জেলবন্দি রয়েছেন।
শুক্রবার সকালে বাড়ি ফেরার পর বিভাস অধিকারী তাঁর প্রতিষ্ঠিত সারা ভারত আর্য মহাসভার আটকুলা চারাগাছি মোড়ের দলীয় কার্যালয়ে যান। সেখানে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা তাঁকে ফুলের মালা, পুষ্পবৃষ্টি এবং ব্যান্ড বাজনার মাধ্যমে সংবর্ধনা জানান।
সংবাদমাধ্যমের সামনে বিভাস অধিকারী দাবি করেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জন্য তাঁকে বিভিন্ন সময় নানা প্রলোভন দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তিনি সেই প্রস্তাবে সাড়া দেননি। তাঁর অভিযোগ, হিন্দুত্ববাদী নামের আড়ালে তাঁর গড়া সংগঠন বিজেপির ভিত নড়িয়ে দিচ্ছিল বলেই পরিকল্পিতভাবে তাঁকে গ্রেফতার করে আটকে রাখা হয়। ইডি ও সিবিআই দিয়েও তাঁকে দমন করা যায়নি বলেই শেষ পর্যন্ত বিজেপি শাসিত রাজ্যে গিয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিভাস অধিকারীর এই বক্তব্যের পর তাঁকে ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা নতুন করে তীব্র হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসে তাঁর প্রত্যাবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে জেলা রাজনীতিতে জল্পনা ক্রমশ বাড়ছে।








