দিল্লিতে রণংদেহী মমতা অগ্নিকন্যাকে রুখতে পুলিশ, বঙ্গ ভবনে হানা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: এসআইআর ইস্যুতে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে বৈঠক এবং সুপ্রিম কোর্টে মামলা ঠুকতে গিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে গিয়েছে তৃণমূলের হাইপ্রোফাইল প্রতিনিধিদল এবং সর্বোপরি সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে এসআইআরে ভোগান্তির শিকার হওয়া বাংলার শতাধিক ভোটার। সবাই কালো পোশাকে গিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করবেন। অগত্যা মমতা-সহ পুরো টিমকে আটকাতে রাজধানীর বঙ্গ ভবনে হানা দেয় অমিত শাহের পুলিশ। ঘিরে ফেলা হয় গোটা চত্বর। এ খবর শোনামাত্রই দিল্লির রাজপথে নেমে রণংদেহি মেজাজে গর্জে উঠলেন বাংলার অগ্নিকন্যা।
স্বভাবতই উত্তাল হয়ে ওঠে রাজধানীর রাজপথ থেকে সংসদ। দিল্লির মাটিতে দাঁড়িয়েই প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছোড়েন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। বলেন, এভাবে আমাকে আটকাতে পারবেন না! লোকসভায় ওয়েলে নেমে মোদি-শাহের একেবারে মুখের সামনে দাঁড়িয়ে তৃণমূল সাংসদরা ধিক্কার জানালেন অমিত শাহকে। তাঁদের সঙ্গে যোগ দেয় অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টিও।
সোমবার সকাল থেকেই বঙ্গ ভবনের বাইরে জড়ো হচ্ছিল দিল্লি পুলিশ। কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল দিল্লির পুলিশ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। ধীরে ধীরে তারা কার্যত নজরবন্দি করে ফেলে বাংলা থেকে আসা এসআইআর-ভুক্তভোগীদের। এ খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলের দিকে রওনা হন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও।
পুলিশের এহেন আচরণে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এবং গর্জে ওঠে মমতা। তিনি তো শুধু এসআইআরের খসড়া তালিকায় নাম কেটে যাওয়া ভোটার এবং মৃত বিএলও’র পরিজনকে নিয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন। কোনো ধরনা বা বিক্ষোভের পরিকল্পনা নেই। মমতার প্রশ্ন, তা সত্ত্বেও কেন এভাবে নজরবন্দি করে রাখা? কেন ঘিরে ফেলবে বঙ্গ ভবন? আমাকে এত ভয় কীসের?
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীকে রাজ্যেরই অতিথিশালায় ঢুকতে বাধা দেয় দিল্লি পুলিস। পরে অবশ্য গার্ডরেল সরিয়ে তিনি প্রবেশ করেন। পুলিশের উদ্দেশে রণংদেহি মমতা বলেন, ‘আপনাদের বাড়িতেও মা-বোন আছে। যাঁরা এসেছেন, এসআইআরে তাঁদের পরিবারের লোকজন মারা গিয়েছেন। আর দুঃখভারে জর্জরিত সেই মানুষগুলোকে আপনারা আটকে রাখতে চাইছেন। জানি আপনারা নির্দেশের দাস। উপর থেকে যেমন নির্দেশ এসেছে, তেমন করছেন। কিন্তু তাও বলছি, এভাবে আমাকে আটকাতে পারবেন না! আমি লড়ে নেব।’
বঙ্গভবনে পুলিশি ঘেরাটোপে থাকা লোকজনদের অভয় দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, কেউ কিছু করতে পারবে না। এটা রাজ্য সরকারের এলাকা। এখানে পুলিশ ঢুকতে দেব না। আর ঢুকলেও ভয় পাবেন না। আমি আছি। অভিষেক আছে। দেখি কার কত হিম্মত! মমতার স্পর্ধা দেখে পিছু হটে অমিত শাহের পুলিশ। সন্ধ্যার আগেই জানা যায়, বঙ্গ ভবনের নিরাপত্তায় মোতায়েন হচ্ছে রাজ্য পুলিশ।








