রাজ্যের আপত্তিতেই থমকে চিংড়িঘাটা মেট্রোর কাজ হাইকোর্টের নির্দেশের কথাও তুলে ধরলেন রেলমন্ত্রী
নতুন পয়গাম, কলকাতা: একদিকে জোকা, অন্যদিকে নিউ গড়িয়া ও নোয়াপাড়া গোটা কলকাতাকে মেট্রো নেটওয়ার্কে যুক্ত করার লক্ষ্যে একাধিক প্রকল্পে কাজ চলছে। বহু জায়গায় কাজ এগোলেও জমি সংক্রান্ত জটের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশে বারবার বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলল রেল মন্ত্রক। চিংড়িঘাটা মেট্রো প্রকল্পের ক্ষেত্রেও সেই সমস্যাই সামনে এসেছে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, চিংড়িঘাটায় মাত্র ৩১১ মিটার অংশের কাজ এখনও বাকি। এই অংশের জন্য প্রয়োজনীয় সার্ভিস রোড রেল কর্তৃপক্ষ নিজেদের খরচে তৈরি করে দিলেও রাজ্য সরকারের তরফে কাজের অনুমতি মিলছে না বলে অভিযোগ। এমনকি কলকাতা পুলিশের পক্ষ থেকেও অনুমোদন না পাওয়ায় দেড় বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ বন্ধ রয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও রাজ্যের আপত্তির কারণেই চিংড়িঘাটায় কাজ এগোচ্ছে না। তিনি বলেন, “চিংড়িঘাটা এলাকায় বাইপাস রোড তৈরির অনুমতি রয়েছে, আদালতের নির্দেশও আছে। তবুও রাজ্য সরকারের তরফে কাজের ছাড়পত্র মিলছে না। না হলে এই প্রকল্প অনেক আগেই শেষ হয়ে যেত।”
রেলমন্ত্রী আরও দাবি করেন, গত ৪০ বছরে কলকাতা মেট্রোর দৈর্ঘ্য যেখানে মাত্র ২৭ কিলোমিটার বেড়েছিল, সেখানে মোদী সরকারের আমলে ১১ বছরে ৪৫ কিলোমিটার নতুন মেট্রো পথ যুক্ত হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের সহযোগিতা পেলে মেট্রো প্রকল্পে আরও দ্রুত গতি আসত।
এদিকে চলতি অর্থবর্ষের বাজেটে কলকাতা মেট্রোর জন্য ২১০০ কোটিরও বেশি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৫২৯ কোটি টাকা। দমদম বিমানবন্দর থেকে রাজাহাট হয়ে গড়িয়া পর্যন্ত মেট্রো লাইনের জন্য রাখা হয়েছে ৭০৫ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা। পাশাপাশি জোকা-বিবাদী বাগ হয়ে মাঝেরহাট পর্যন্ত মেট্রো প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ হয়েছে ৯০৬ কোটি টাকা।
রেল মন্ত্রকের বক্তব্য, অর্থের অভাব নেই, কিন্তু জমি ও প্রশাসনিক অনুমতির জটেই বারবার থমকে যাচ্ছে কাজ। চিংড়িঘাটার মতো গুরুত্বপূর্ণ অংশে দ্রুত অনুমতি মিললে কলকাতা মেট্রোর মানচিত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।








