গুজরাটে চরম বর্ণবিদ্বেষের নজির ঘোড়ায় চড়ে বিয়ে, দলিত বরের ওপর হামলা
নতুন পয়গাম, পাটান: গুজরাটের পাটান জেলার এক গ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। এক দলিত যুবক বিয়ের যাত্রায় ঘোড়ায় চড়ায় তাঁর ওপর উচ্চবর্ণের ঠাকুর সম্প্রদায়ের লোকেরা হামলা চালায় বলে অভিযোগ। এই ঘটনা গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যমান গভীর বর্ণবিদ্বেষ ও জাতিগত বৈষম্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। সোমবার চন্দ্রমনা গ্রামে এই ন্যক্করজনক ঘটনা ঘটে। বিশাল চাভদা নামে এক দলিত যুবক যখন তাঁর বিয়ের যাত্রায় ঘোড়ায় চড়ে যাচ্ছিলেন, তখন প্রভাবশালী ঠাকুর সম্প্রদায়ের কিছু লোক তাদের পথ আটকায়। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দলিত হয়ে ঘোড়ায় চড়ার বিষয়ে তারা তীব্র আপত্তি জানায়।
বরের পরিবারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা জাতপাত তুলে গালিগালাজ করে এবং বরযাত্রীদের হুমকি দেয়। তাদের কয়েক জনের কাছে তলোয়ার-সহ ধারালো অস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ। মুহূর্তের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ আতঙ্কে রূপ নেয়। উপস্থিত লোকজনের দাবি, হামলাকারীরা চিৎকার করে বলছিল, “এই গ্রামে একজন দলিত হয়ে ঘোড়ায় চড়ার সাহস হয় কী করে?” বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালানো হলে শোভাযাত্রাটি মাঝপথেই থেমে যেতে বাধ্য হয়।
এরপর বরের বাবা থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর বিবৃতির ভিত্তিতে পাটান পুলিশ আটজনের নামে এফআইআর করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার দাঙ্গা, বেআইনি সমাবেশ, অন্যায়ভাবে বাধা প্রদান এবং অপরাধমূলক হুমকির ধারাসহ তফশিলি জাতি ও তফশিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের অধীনে মামলা করা হয়েছে।
ডিএসপি পি.জে রেণুকা জানান, তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে তিন অভিযুক্তকে খুঁজে পাওয়া গেছে এবং তাদের আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ ছিল। তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, অভিযুক্তদের সম্প্রদায়ের একজন মারা গিয়েছিলেন, তাই তারা ডিজে বন্ধ করতে বলেছিল। এরপরই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এছাড়া অভিযোগকারী ও অভিযুক্তদের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমি সংক্রান্ত বিরোধও রয়েছে।
তবে এই ঘটনা ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কারণ, গুজরাটে এর আগেও এই ধরনের হামলার খবর পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে গান্ধীনগরে এক দলিত বরকে ঘোড়া থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়েছিল। ২০২০ সালে ঘোড়ায় চড়ার অপরাধে এক সেনা জওয়ানের বিয়ের যাত্রায় পাথর ছোড়া হয়েছিল।
দলিত অধিকার কর্মীদের মতে, এই ধরনের ঘটনা প্রমাণ করে যে কঠোর আইন থাকা সত্ত্বেও সামাজিক সমতা এখনো অধরা। একজন অধিকার কর্মী বলেন, “ঘোড়া এখন দলিতদের কাছে মর্যাদার প্রতীকে পরিণত হয়েছে, আর প্রভাবশালী জাতিগুলো সহিংসতার মাধ্যমে পুরনো সামাজিক স্তরবিন্যাস টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে।”








