রুশ-ইরান নয়, ভেনিজ তেল কিনবে ভারত: ট্রাম্প
নতুন পয়গাম, ওয়াশিংটন: ভারত সরকার কোন দেশ থেকে তেল কিনবে, তা জানিয়ে দিল আমেরিকা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনেক আগেই বলেছেন, রাশিয়া থেকে তেল কেনা চলবে না। তারপরেও ভারত রুশ তেল কেনায় অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে আমেরিকা। এবার ট্রাম্প জানালেন, রাশিয়া কিংবা ইরান থেকে নয়, ভারত সরকার তেল কিনবে ভেনেজুয়েলা থেকে। কারণ সহজেই অনুমেয়। ভেনিজ প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে মধ্যরাতে অপহরণ করে আমেরিকায়ায় তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ৩ জানুয়ারি। তারপর ভেনিজ তেলের নিয়ন্ত্রণ নেন ট্রাম্প। তাই এবার ভেনিজ তেল কেনার জন্য ভারত-সহ বিভিন্ন দেশকে তেলাচ্ছেন ট্রাম্প। হয়ত এবারও তার কথা না শুনলে ফের চড়া শুল্ক চাপাবেন।
কিন্তু ট্রাম্পের কথা শুনতে গিয়েই ক্রমেই ভারত ‘মিত্র’ দেশগুলির সঙ্গে সম্পর্ক খারাপ করছে! ‘তিক্ত’ হবে ভারতের সঙ্গে ইরান, রাশিয়ার সম্পর্ক। তেমনই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, ট্রাম্পের তেল রাজনীতি, ক্রমশ চাপে ফেলছে নয়াদিল্লিকে। রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কেনার অপরাধে এমনিতেই অতিরিক্ত শুল্ক দিতে হচ্ছে ভারতকে। তার উপর ইরানের থেকেও আর তেল কিনতে পারবে না নয়াদিল্লি! ট্রাম্পের নতুন নিদান বা ফরমানকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে জল্পনা। শনিবার ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভারত আসছে আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করতে। ভেনেজুয়েলার তেল কিনবে তারা। ইরানের থেকে আর তেল কিনবে না ভারত। ইতিমধ্যেই আমাদের মধ্যে চুক্তি হয়ে গিয়েছে এই বিষয়ে।’
এতেই বেড়েছে চিন্তা। ইরানের সঙ্গে ভারতের দীর্ঘদিনের সুসম্পর্ক। একাধিক বাণিজ্যিক বিষয়ে সমঝোতা রয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার এই দেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে তেল কেনে ভারত। কিন্তু সেটা পছন্দ নয় ট্রাম্পের। তাই নয়াদিল্লিকে ভেনেজুয়েলার তেল কিনতে জোর দিচ্ছেন ট্রাম্প। কারণ, ইরানকে কোণঠাসা করতে উঠে পড়ে লেগেছেন ট্রাম্প। পরমাণু চুক্তি করতে ইরান সরকারকে লাগাতার মাফিয়াদের মতো হুমকি দিচ্ছেন। কিন্তু তাতেও ইরান মাথানত করতে রাজি না হওয়ায় এবার তাই ঘুরপথে অর্থনৈতিকভাবে ইরানকে পঙ্গু করতে চায় ওয়াশিংটন।
এদিকে, এমনিতেই ট্রাম্পের হুমকিতে ইরানের শাবাহার বন্দরে বিনিয়োগ বন্ধ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। এবার তেহরানের তেল কেনাও বন্ধ রাখতে গিয়ে কোনও বিপদ ডেকে আনবে না তো মোদি সরকার, প্রশ্ন বিরোধীদের।








