যৌনতাপূর্ণ ডিপফেক ছবি তৈরির জন্য ইলন মাস্কের এক্স-এর বিরুদ্ধে তদন্ত করেছে ইউরোপ
নতুন পয়গাম: ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট (ডিএসএ) লঙ্ঘনের অভিযোগে ইলন মাস্কের এক্স-এর বিরুদ্ধে নতুন করে তদন্ত শুরু করল ইউরোপীয় কমিশন। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এক্স-এর কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ভিত্তিক চ্যাটবট ‘গ্রোক’। যার মাধ্যমে নারী ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের যৌনায়িত ডিপফেক ছবি তৈরি হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভনডার লিয়েন বলেন, ‘ইউরোপে আমরা নারী ও শিশুদের ডিজিটালভাবে উলঙ্গ করার মতো অকল্পনীয় আচরণ কোনওভাবেই সহ্য করব না।’
একই সঙ্গে, ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে শুরু হওয়া এক্স-এর বিরুদ্ধে আরেকটি চলমান তদন্তের পরিধিও বাড়ানো হয়েছে। সেই তদন্তে মূলত এক্স-এর রিকমেন্ডার সিস্টেম বা বিষয়বস্তু সুপারিশ ব্যবস্থার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন ঠিকভাবে হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ইউরোপীয় কমিশনের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নতুন এই তদন্তে দেখা হবে ইইউ-এর মধ্যে গ্রোক-এর ফিচার চালু করার আগে ও পরে সংশ্লিষ্ট বিপদগুলি যথাযথভাবে মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে কি না। এর মধ্যে রয়েছে অবৈধ কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি। যেমন- যৌনভাবে বিকৃত বা কারসাজি করা ছবি। এমনকি শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদান হিসেবে গণ্য হতে পারে এমন বিষয়বস্তুও।
প্রযুক্তি সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা ও গণতন্ত্র বিষয়ক ইউরোপীয় কমিশনের নির্বাহী উপ-সভাপতি হেনা ভির্কুনেন বলেন, নারী ও শিশুদের যৌন ডিপফেক একটি সহিংস ও সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য অবমাননার রূপ। তাঁর কথায়, ‘এই তদন্তের মাধ্যমে আমরা নির্ধারণ করব এক্স ডিএসএ অনুযায়ী তার আইনি দায়িত্ব পালন করেছে কি না। নাকি ইউরোপীয় নাগরিকদের, বিশেষ করে নারী ও শিশুদের অধিকারকে তাদের পরিষেবার সাইড এফেক্ট হিসেবে উপেক্ষা করা হয়েছে।’
কমিশন আরও জানিয়েছে, গ্রোক-এর ফিচার ব্যবহারের ফলে অবৈধ কনটেন্ট ছড়ানো, লিঙ্গভিত্তিক হিংসা বৃদ্ধি এবং শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার উপর গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এক্স-কে গ্রোক সংক্রান্ত একটি বিশেষ ঝুঁকি মূল্যায়ন রিপোর্ট প্রস্তুত করে কমিশনের কাছে জমা দিতেও বলা হয়েছে।








