কেন্দ্রীয় বাজেট: পাখির চোখ ভোট, ব্রাত্য বাংলা
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছিলেন, এবার ঐতিহাসিক বাজেট হতে চলেছে। কিন্তু রবিবার ছুটির দিন বাজেট দেখে দিনটাই মাটি হয়ে গেল বিশেষ করে বাঙালির। এদিন সংসদে কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণের বাজেট পেশ করার পর দেখা গেল, ঐতিহাসিক তো নয়ই; বরং ভোটমুখী বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির কথা মাথায় রেখেই বাজেট করা হয়েছে।
যেমন শেষবারের কেন্দ্রীয় বাজেট ছিল বিহার বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে। এবার যে এক ডজন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর চলছে, সেদিকে লক্ষ্য রেখেই বাজেট পেশ হল, কিন্তু ব্রাত্য রইল বাংলা। পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর হলেও রাজ্যের প্রাপ্তির ঝুলি তেমন কিছু এল না। অর্থাৎ এবারও যে বাংলা দখল অধরাই থাকবে, তা বাজেট থেকে স্পষ্ট বলে অভিমত তৃণমূল শিবিরের।
ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশের জন্য রয়েছে বেশ কিছু প্রকল্প। ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও কেরলের জন্য বিশেষ কয়েকটি ঘোষণা। সাকুল্যে এই ছিল এদিনের বাজেট। করের ক্ষেত্রে নতুন কোনও বড় ঘোষণা নেই। তবে মেডিকেল সেক্টর ও এআই-এর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা জানিয়েছেন, চাকরি ক্ষেত্রে এআইয়ের কী প্রভাব রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। প্রতি জেলায় মেয়েদের জন্য হস্টেল, বায়ো ফার্মা সেক্টরে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ। ক্ষুদ্র শিল্পেও বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
এছাড়া আয়ুর্বেদ ইনস্টিটিউট, উত্তর ভারতে নিমহ্যান্স-এর নতুন ক্যাম্পাস, মানসিক রোগের চিকিৎসায় জোর দেওয়ার ঘোষণাও করেছেন। তবে দুটি বিষয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। বিদেশে থাকা ভারতীয়দের শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ও করে ছাড়, দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থ। চারটি রাজ্যে দুষ্প্রাপ্য খনিজ পদার্থের জন্য বিশেষ করিডরের ঘোষণা হয়েছে। ওড়িশা, কেরল, অন্ধ্রপ্রদেশ ও তামিলনাড়ুর মধ্যে হবে সেই করিডর।
১০০ দিনের কাজ বা মনরেগা প্রকল্পের নাম বদলে ‘জিরামজি’ করায় বিরোধী শিবির থেকে ব্যাপক ক্ষোভের মুখে পড়েছে মোদি সরকার। সেই ক্ষতে প্রলেপ দিতে মহাত্মা গান্ধীর নামে নতুন প্রকল্প শুরু হল, যার নাম ‘মহাত্মা গান্ধী গ্রাম স্বরাজ’। মূলত খাদি বস্ত্রের ব্যবসা বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই প্রকল্প।
উল্লেখ্য, এ বারের বাজেটে মোট কর রাজস্ব ২৮.৭ লক্ষ কোটি টাকা এবং বাজেটের আকার ৫৩.৫ লক্ষ কোটি টাকা অনুমোদন করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রক। এছাড়াও এদিন আয়কর বিষয়ে একাধিক ঘোষণা হয়। ১লা এপ্রিল থেকে লাগু হবে নতুন আয়কর আইন। পাশাপাশি আইটি রিটার্নের সময়সীমা বাড়িয়ে ৩১ জুলাই পর্যন্ত করা হল। এবার থেকে আয়কর ফাঁকিতে আর জেলযাত্রা নয়; বরং অতিরিক্ত ১০ শতাংশ জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই জরিমানা দিলেই মিলবে রেহাই।








