কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলা কী পেল?
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: বাম হাতে মনসা পুজো দেওয়ার মতো বাংলার জন্য বাজেটে কিছু ঘোষণা করলেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তবে বিহার, অন্ধ্র্প্রদেশ কিংবা ডাবল ইঞ্জিন রাজ্যের মতো বিশেষ তোহফা কিংবা আর্থিক প্যাকেজ পেল না পশ্চিমবঙ্গ। ফের প্রমাণ হল, কেন্দ্রের কাছে ব্রাত্য বাংলা, বরাবরই বিমাতৃতসুলভ আচরণের শিকার। সামনেই বাংলার বিধানসভা নির্বাচন। তাই অনেকেই আশা করেছিলেন, এবার বাংলার জন্য কেন্দ্রীয় বাজেটে নিশ্চিত বিরাট উপহার থাকবে। কিন্তু রবিবার বেলা যত গড়াল, দেখা গেল বাংলা তেমন কিছুই পেল না।
তবে এদিন বাজেটে পণ্য পরিবহণ পরিকাঠামো উন্নয়নে বাংলার জন্য বিশেষ রূপরেখা সংবলিত প্রস্তাব পেশ করেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী। পূর্ব ভারত তথা পশ্চিমবঙ্গের জন্য রয়েছে চমক। শিল্প ও বাণিজ্যকে নয়া গতি দিতে ঘোষিত হল ডানকুনি থেকে সুরাত ডেডিকেটেড ফ্রেট করিডর। এই মালবাহী ফ্রেট করিডর দেশের দুই প্রান্তের-শিল্পনগরী সুরাত থেকে বাংলার প্রবেশদ্বার ডানকুনিকে জুড়তে চলেছে। এর ফলে গুজরাতের শিল্পাঞ্চল থেকে কাঁচামাল এবং পণ্য সরাসরি দ্রুতগতিতে পৌঁছাবে বাংলায়। এতে আন্তঃরাজ্য ব্যবসায় আমূল পরিবর্তন ঘটবে। দুর্গাপুরের শিল্পের পরিকাঠানো উন্নয়নে জোর দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন নির্মলা সীতারামন। যদিও মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী বলেছেন, ২০০৯ সালে তিনি রেলমন্ত্রী থাকাকালে ডানকুনি-সুরাত করিডর ঘোষণা করেছিলেন। অর্থাৎ নির্মলার এই ঘোষণা নতুন বোতলে পুরনো মদ।
তবে যাত্রীবাহী ট্রেনের ক্ষেত্রে বারাণসী-শিলিগুড়ি হাইস্পিড রেল (বুলেট ট্রেন) করিডর অভিনব। সারা দেশে এমন ৬টি হাইস্পিড রেল করিডর তৈরি করা হবে। তবে এই বুলেট ট্রেনের গল্প শুরু থেকেই শুনিয়ে আসছে মোদি সরকার। আজো তার কিছুই হয়নি। সারা দেশে ১০০ স্মার্ট সিটি গড়ার কথা শোনানো হয় বছর আষ্টেক আগে। আজো তার ছিটেফোঁটা দেখা যায়নি। আচ্ছে দিন, স্বচ্ছ ভারত অভিযান, নমামি গঙ্গে, মেক ইন ইন্ডিয়া, ডিজিটাল ইন্ডিয়া, ক্যাশলেস ইকোনমি… এসব গালভরা শব্দবন্ধনী শুনতেই ভাল, কাজের কাজ কিছুই হয় না। আবার পরের বছর বাজেটে ফের নিত্যনতুন প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দেখা যায়। আগের বাজেট কতখানি বাস্তবায়িত হল, সে প্রশ্ন ঠাণ্ডাঘরে চলে যায়।








