থোড়াই কেয়ার, রাজ্য পাবে করের ৪১ শতাংশই: বাজেট
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: রাজ্যগুলির আর্থিক সঙ্কট বিপুল বাড়তে চলেছে। ষোড়শ অর্থ কমিশনের রিপোর্টে রাজ্যের জন্য একের পর এক দুঃসংবাদ দেওয়া হয়েছে সুপারিশের মাধ্যমে। যদি প্রতিটি সুপারিশ কেন্দ্র কার্যকর করতে চায় এবং রাজ্যকেও চাপ দেয়, তাহলে রাজ্যগুলির রাজকোষে বিপুল টান পড়বে। তার ফলশ্রুতি হল, রাজ্যগুলিকে আরও বেশি করে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর নির্ভরশীল হতে হবে। বস্তুত যে বিষয়গুলির উপর এতদিন ধরে লক্ষ্য করা হয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার জোর দিচ্ছে, অর্থ কমিশনের অবিকল সেই সুপারিশ কেন্দ্রীয় সরকার গ্রহণ করেছে। রবিবার বাজেট পেশ করার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন জানিয়ে দেন যে, অর্থ কমিশনের সুপারিশ কেন্দ্র গ্রহণ করেছে। অর্থাৎ ওই সুপারিশ কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় সরকারের আপত্তি নেই। রাজ্যগুলির জন্য সবথেকে বড় ধাক্কা হল, দেশজুড়ে মোট আদায়ীকৃত ট্যাক্সের যে ভাগ রাজ্যগুলিকে দেওয়া হয়, সেই অনুপাত অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে, ৪১ শতাংশ। অর্থাৎ দেশ থেকে মোট যত পরিমাণ বিভাজনযোগ্য ট্যাক্স কেন্দ্রের কাছে জমা হয়, তার ৪১ শতাংশ পায় রাজ্যগুলি। এই একই হার আগামী ৫ বছরও বজায় থাকবে। অথচ সব রাজ্য সরকার বারবার চেয়েছে, যাতে রাজ্যের প্রাপ্য হার বাড়ানো হয়। অধিকাংশ রাজ্যের দাবি ছিল ৫০ শতাংশ।
রাজ্যগুলির যুক্তি, রাজ্য থেকে ট্যাক্স আদায় করে কেন্দ্র নিয়ে চলে যাবে, অথচ রাজ্যের ভাগ বাড়ানো হবে না, এটা যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় চলতে পারে না। সবথেকে উল্লেখযোগ্য বঞ্চনা হল, চতুদর্শ অর্থ কমিশন কেন্দ্র থেকে রাজ্যের প্রাপ্য ৩২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৪২ শতাংশ করেছিল। কিন্তু পঞ্চদশ অর্থ কমিশন ২০১৯ সালে সেই ৪২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ নতুন দুই কেন্দ্র শাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখের জন্য বরাদ্দ করে। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, পরে এই ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে এবং আবার যথাযথ ভাগ পাবে রাজ্যগুলি। সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। উলটে ষোড়শ অর্থ কমিশনের কাছে রাজ্যগুলি বহু আশা করেছিল যে, এবার সম্ভবত এই রাজ্যের ভাগের ট্যাক্স বাড়বে। সেটাও হল না।
এবার বাজেটে বেসরকারিকরণের লক্ষ্যে সরকারি সংস্থা বিক্রি করে ৮০ হাজার কোটি টাকা আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছে মোদি সরকার। ২০২৫ সালে এই খাতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৪ হাজার কোটি টাকা। অর্থাৎ এবার সরকারি সম্পত্তি বেচার প্রায় তিনগুণ টার্গেট বাড়ানো হয়েছে। সরকারি সংস্থা, ব্যাঙ্ক, রাষ্ট্রায়ত্ত সম্পদ বিক্রি হবে এবার অবাধে জলের দরে। কিনবে সেই দুই ধনকুবের শিল্পপতি। এমনটাই অভিমত বিরোধীদের। তাই এই বাজেটকে জনবিরোধী, নতুন বোতলে পুরনো মদ, দিশাহীন ইত্যাদি আখ্যা দিয়েছে বিরোধী শিবির।








