ঘুসপেটিয়াদের মরুদ্যান পশ্চিমবঙ্গ: অমিত শাহ
বিজেপি সাংসদই তো কাঁটাতার খুলতে বলছেন: অভিষেক
নতুন পয়গাম, বারাকপুর ও শিলিগুড়ি: এসআইআর পর্বে কোটি কোটি বাংলাদেশি আর রোহিঙ্গার হদিশ না মিললেও, অনুপ্রবেশই যে বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে তাদের অন্যতম ইস্যু, ফের তা স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন অমিত শাহ। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শনি ও রবিবার রাজ্যের দুই প্রান্ত বারাকপুর ও শিলিগুড়ির কর্মিসভার মঞ্চ থেকে অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বিঁধেছেন রাজ্য সরকারকে। তাঁর অভিযোগের নির্যাস হল, জমি দিচ্ছেন না মমতা, তাই নাকি সীমান্তে দেওয়া যাচ্ছে না কাঁটাতার। ঠেকানো যাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়োজিত বিএসএফ, অমিত শাহের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন। সীমান্ত থেকে ৫০ কিমি পর্যন্ত এলাকায় টহলদারি, নজরদারি এমনকী পাকড়াও করার অধিকার সম্প্রতি বর্তেছে বিএসএফের কাঁধে।
তবুও শাহের অভিযোগ, বাংলার মাটি ঘুসপেটিয়াদের কবজায়। রাজ্য পুলিশ ঠেকাচ্ছে না অনুপ্রবেশ। এরপরই সীমান্ত, অনুপ্রবেশ, বিএসএফ এবং পুলিশের ‘এক্তিয়ার’ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে বেশ কিছু তথ্য সামনে এসেছে প্রশাসনিক সূত্রে। যেমন- কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় ২০২ একর জমি কেনার টাকা এখনও বরাদ্দ করেনি কেন্দ্র। অসুরক্ষিত আরও ১৭৯ কিমি সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি কেনার কোনো প্রস্তাব নবান্নে পাঠায়নি দিল্লি।
অন্যদিকে শাহী খোঁচার পাল্টা জবাব দিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের সময় হয়েছে, তাই এখন প্রতিমাসে অমিত শাহ আসছেন। কিন্তু নির্বাচনের পরে তাঁকে কি আর খুঁজে পাওয়া যাবে! প্রত্যয়ী অভিষেক, যতবার ইচ্ছে আসুন, বাংলা কিন্তু তৃণমূলের হাতেই থাকবে।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে আনা শাহের দুর্নীতি অভিযোগের জবাবে অভিষেক বলেন, ‘অমিত শাহ! আপনার পাশেই মঞ্চে দুর্নীতিগ্রস্তরা বসে আছেন। হাস্যকর কথা বলবেন না। বাংলা, অসম, মহারাষ্ট্র-সহ ডাবল ইঞ্জিন সব রাজ্যে বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির ভুরি ভুরি অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নিতে পারেননি? নীরব মোদী ও মেহুল চোকসিদের দেখা গিয়েছে মোদীর সঙ্গে। সবাই তা জানে। এরা নিশ্চয়ই কেউ দুর্নীতিগ্রস্ত নন!
অনুপ্রবেশ ইস্যুতে অভিষেক বলেন, ‘প্রকাশ্য সভায় বিজেপি সাংসদ জগন্নাথ সরকার বলেছেন, তাঁরা ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত খুলে দেওয়া হবে। এই মন্তব্যের পরও জগন্নাথের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেননি অমিত শাহ? তাহলে কী জগন্নাথ সরকারের বক্তব্যকে সমর্থন করেন অমিত শাহ!’ অভিষেকের প্রশ্ন, ‘এসআইআর প্রক্রিয়ায় পশ্চিমবঙ্গে কতজন রোহিঙ্গা এবং বাংলাদেশি ধরা পড়েছে, তার তালিকা কেন নির্বাচন কমিশন প্রকাশ করতে পারল না? আনন্দপুরে মোমো কারখানায় অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে শাহের কটাক্ষের জবাবে অভিষেক বলেন, মধ্যপ্রদেশে পানীয় জল খেয়ে বহু মানুষ মারা গিয়েছেন। এর জন্য তাহলে নরেন্দ্র মোদি দায়ী?’








