এবারও বাজেটে ঢালাও কাটছাঁট এসসি, এসটি, ওবিসি খাতে বরাদ্দ আরো কম
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: কেন্দ্রীয় বাজেট-২৬ ঘিরে নানা রকম প্রতিক্রিয়া আসছে। বিরোধী শিবিরের তরফে কেউ বলছেন, জনবিরোধী এই বাজেট, কেউ বলছে দিশাহীন, কেউ বলছেন কর্পোরেট বান্ধব, মানুষমারা বাজেট। সরকারের বক্তব্য, সংস্কারমুখী বাজেট। কিন্তু এই সংস্কার মূলত সরকারি সম্পদ ঢালাও বিক্রি করে রাজকোষের ঘাটতি পূরণ অর্থাৎ বেসরকারিকরণ। কৃষক, যুবসমাজ, শিক্ষা ও সমাজের পিছিয়েপড়া অংশ, সব ক্ষেত্রেই বরাদ্দ কমেছে। রাজ্য সরকারের মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা তথা রাজ্যের প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী অমিত মিত্র বলেছেন, এই বাজেট জনস্বার্থের পরিপন্থী এবং একের পর এক খাতে পরিকল্পিত ভাবে বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে কেন্দ্র।
শিক্ষা খাতে ধারাবাহিক কাটছাঁট:
দেখা যাচ্ছে ২০১৫-১৬ অর্থবর্ষে কেন্দ্রীয় বাজেটে মোট ব্যয়ের ৩.৮ শতাংশ বরাদ্দ ছিল শিক্ষার জন্য। চলতি বাজেটে তা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২.৬০ শতাংশে। অর্থাৎ সময়ের সঙ্গে শিক্ষা খাতে ব্যয় বাড়ার বদলে কমেছে। সরকার যদি সত্যিই শিক্ষার গুরুত্ব বুঝত, তবে এই খাতে বরাদ্দ কমাত না। বিশ্বের প্রায় সব দেশই শিক্ষা খাতে ব্যয় বরাদ্দ বাড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী মোট ব্যয়ের অন্তত ৫-৬ শতাংশ শিক্ষায় খরচ হওয়া উচিত। সেখানে ভারতের বরাদ্দ ক্রমশ কমছে, যা উদ্বেগজনক।
কৃষক-গ্রামাঞ্চল নিয়ে উদাসীনতা:
সারে ভর্তুকি কমানো নিয়েও বিরোধীরা তোপ দেগেছে কেন্দ্রীয় বাজেটকে। ২০১৫-১৬ সালে মোট বাজেট ব্যয়ের ৪.০৪ শতাংশ ছিল সারে ভর্তুকি। চলতি বাজেটে তা কমে হয়েছে ৩.১৯ শতাংশ। অথচ কৃষক ও গ্রামাঞ্চলের মানুষের কথা ভেবে এই ভর্তুকি বাড়ানো প্রয়োজন ছিল। কিন্তু উল্টে তা কমানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট, কৃষক স্বার্থ কেন্দ্রের অগ্রাধিকার তালিকায় নেই।
দুর্বল শ্রেণির বরাদ্দেও ছাঁটাই:
সমাজের চারটি পিছিয়েপড়া অংশ তফসিলি জাতি, উপজাতি, ওবিসি এবং সংখ্যালঘু কল্যাণে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। ২০১৫-১৬ সালে এই চার শ্রেণির কল্যাণে মোট বাজেটের মাত্র ০.২১ শতাংশ বরাদ্দ ছিল। চলতি বাজেটে তা আরো কমে হয়েছে ০.১৯ শতাংশ। এতে স্পষ্ট বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার উচ্চবর্ণের দল।
২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে বাজেটে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা প্রকল্পে ৩০,১৭০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা ছিল। কিন্তু সংশোধিত হিসাবে তা কমে দাঁড়ায় ১৩,৬৭০ কোটি টাকা। চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ হলে দেখা যায়, প্রকৃত খরচ হয়েছে মাত্র ৫,৮১৫ কোটি টাকা। বরাদ্দের থেকে প্রায় ৬ গুণ কম। অর্থাৎ বাজেটে যে ছবি দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হয়, বাস্তবের সঙ্গে তার বিস্তর ফারাক থেকে যাচ্ছে।








