শিক্ষার্থী সপ্তাহে খাদ্য মেলা: স্বাদের সঙ্গে শিক্ষার উৎসব উস্থি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে
নতুন পয়গাম: শিশুদের হাতে-কলমে শেখা, পুষ্টি সম্পর্কে সচেতনতা এবং গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খাদ্যসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটানোর লক্ষ্যে উস্থি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত হলো ‘খাদ্য মেলা ২০২৬’। শিক্ষার্থী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলাকে ঘিরে সকাল থেকেই বিদ্যালয় চত্বরে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। রঙিন ফেস্টুনে সাজানো প্রাঙ্গণ, শিশুদের উচ্ছ্বাস, অভিভাবকদের সরব উপস্থিতি এবং নানা রান্না করা খাবারের মনোরম সুবাসে বিদ্যালয় যেন এক আনন্দময় মিলনক্ষেত্রে পরিণত হয়। এই খাদ্য মেলার প্রধান উদ্যোক্তা ও অংশগ্রহণকারী ছিল বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরাই। শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে তারা নিজেরাই বিভিন্ন স্টল সাজিয়ে তুলেছিল। প্রতিটি স্টলে ছিল ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের সম্ভার-নাড়ু, পিঠে, মুড়ি-ঘুগনি, ফুচকা, চিড়ের পোলাও, চানা, সিঙারা, তেলে ভাজা এবং চাউমিন মোমোর মতো নানা পদ। সব মিলিয়ে শিশুদের কাছে মেলাটি হয়ে উঠেছিল গ্রামবাংলার খাদ্যঐতিহ্যের এক জীবন্ত প্রদর্শনী।
মেলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল শিশুদের মধ্যে পুষ্টিকর খাদ্য সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং জাঙ্ক ফুডের পরিবর্তে ঘরোয়া খাবারের গুরুত্ব বোঝানো। প্রতিটি স্টলের হিসেবরক্ষণ, বিক্রয় ও উপস্থাপনার দায়িত্ব ছিল ছাত্রছাত্রীদের হাতেই। এতে তারা যেমন বাস্তব জীবনের প্রাথমিক অর্থনৈতিক ধারণা লাভ করেছে, তেমনি শিখেছে কীভাবে অল্প খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার প্রস্তুত করা যায়। ফলে এই মেলা কেবল স্বাদের উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, বরং তা হয়ে উঠেছে এক কার্যকর শিক্ষামূলক অভিজ্ঞতা। মেলাতে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকবৃন্দ।মেলাতে এসে ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ দিয়ে যান উস্থি কে.সি.পি.এম. ইন্সটিটিউশনের প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য সহকারী শিক্ষক শিক্ষিকারা। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বলেন “এই ধরনের উদ্যোগ শিশুদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, নেতৃত্বের গুণ বিকাশে সহায়ক হয় এবং পাঠ্য শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের সেতুবন্ধন গড়ে তোলে।”
সব মিলিয়ে ‘খাদ্য মেলা ২০২৬’ প্রমাণ করে দিল যে উস্থি অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় কেবল পাঠ্যপুস্তকনির্ভর শিক্ষার মধ্যেই আবদ্ধ নয়; বরং জীবনমুখী, আনন্দনির্ভর ও সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষ্যে বিদ্যালয়টি নিরন্তর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে অন্যান্য বিদ্যালয়ের কাছেও এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।








