অবশেষে স্বমহিমায় ফিরছে ‘বন্দে মাতরম’ এবার সাধারণতন্ত্র দিবসে থাকছে বঙ্কিম রচিত গানের থিম
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি: অতি সম্প্রতি সংসদের অধিবেশনে ‘বন্দে মাতরম’ ও ‘জয় হিন্দ’ স্লোগান নিষিদ্ধ করেছিল কেন্দ্র সরকার। শীতকালীন অধিবেশনে এ নিয়ে তুমুল বচসা ও তর্ক বিতর্কের পর অবশেষে তার প্রায়শ্চিত্য করতে চাইছে কেন্দ্র সরকার। সেজন্য এবার ৭৭তম প্রজাতন্ত্র বা সাধারণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে ২৬ জানুয়ারি উদযাপিত হবে ‘বন্দে মাতরম’ থিমে। বাংলা সাহিত্য সম্রাট বঙ্কিম চন্দ্রের লেখা এই গানটির ১৫০ বছর পূর্তি এবং ‘আত্মনির্ভরশীল ভারত’-এর উদ্যোগকে কেন্দ্র করেই এবার সাধারণতন্ত্র দিবসের আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্রের খবর, এই উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের। প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশব্যাপী নানা প্রতিযোগিতা ও আয়োজনের পরিকল্পনাও করা হয়েছে। বিশেষভাবে নাগরিকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে ‘আমার ভারত’ পোর্টালে ‘বন্দে মাতরম’ গান গেয়ে ভিডিও আপলোড করতে এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ থিমে লেখা বা আঁকা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে। পুরো অনুষ্ঠান দেশপ্রেম ও মাতৃভূমির প্রতি শ্রদ্ধার মর্মবাণীকে প্রতিফলিত করবে।
আমন্ত্রিতদের মধ্যে থাকছেন ইউরোপীয় কমিশনের সভাপতি উর্সুলা ভনডর লেইন ও ইউরোপীয় কাউন্সিলের সভাপতি অ্যান্টোনিও কোস্টা। তাঁরা রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাধারণতন্ত্র দিবসের প্যারেড চলাকালীন মঞ্চে উপস্থিত থাকবেন।
পরদিন ২৭ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি ভবনে বিশেষ অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা অংশ নেবেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী ‘ইউ-ইন্ডিয়া সামিট’-এ যোগ দেবেন। সরকারি সূত্র জানা যাচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর এবং বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল-এর সঙ্গে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতাদের মধ্যে দীর্ঘদিন আটকে থাকা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে বৈঠক হতে পারে।
জানা গিয়েছে, আমন্ত্রণপত্রে ‘ভিআইপি’ বা ‘ভিভিআইপি’ শব্দগুলো বাদ দিয়ে কেবল ‘বন্দে মাতরমের ১৫০ বছর’ লোগো ছাপা হবে। সংস্কৃতি মন্ত্রকও তাদের প্রচারাভিযানকে ‘মাই ভারত’ পোর্টালের সঙ্গে সংযুক্ত করবে, যা প্রায় দুই কোটি ব্যবহারকারীর কাছে পৌঁছবে। প্রজাতন্ত্র দিবসে সেনাবাহিনীর ব্যান্ড, বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ ক্যাম্পাস এবং এনসিসি ব্যান্ডের মাধ্যমে ‘বন্দে মাতরম’ থিমের অনুষ্ঠান পরিচালনা করা হবে। এছাড়া তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়কে জাতীয় সঙ্গীত ও বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপর চলচ্চিত্র বা তথ্যচিত্র তৈরি করতে বলা হয়েছে।








