কর্মসংস্থান নয়, মন্দিরের জন্য কত খরচ খতিয়ান দিলেন মমতা
নতুন পয়গাম, কলকাতা, ২৯ ডিসেম্বর: আর মাত্র কয়েক মাস পর রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগে কলকাতার রাজারহাট নিউটাউনে দুর্গাঙ্গনের শীলান্যাস করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। সোমবার এই অনুষ্ঠান থেকে রাজ্যে কোন মন্দিরের জন্য মা মাটি মানুষের সরকার কত টাকা খরচ করেছে, তার বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, দুর্গাঙ্গনকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় অনেক দোকানপাট, হোটেল, রেস্তোরাঁ ইত্যাদি হবে। ফলে এসব জায়গায় কর্মসংস্থান হবে। তিনি আরো বলেন, দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক থেকে কালীঘাটের স্কাইওয়াক-সহ বিভিন্ন মন্দির সংস্কারের জন্য কোটি কোটি টাকা দিয়েছে রাজ্য সরকার। মমতার দাবি, ‘বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গাঅঙ্গন হবে নিউটাউনে। এখানে প্রতিদিন এক লক্ষ ভক্ত আসতে পারবেন। আমরা তার ব্যবস্থা করছি।’
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, দু’লক্ষ বর্গফুট এলাকায় তৈরি হবে এই দুর্গা অঙ্গন। মন্দিরের উঠোনেই এক লক্ষ লোক বসতে পারবেন। চারপাশে ২০ ফুট চওড়া পথ নির্মাণ করা হচ্ছে। মোট ১০০৮টি স্তম্ভ হচ্ছে। মূল গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। মূল মণ্ডপ ছাড়াও সিংহদুয়ার এবং অন্য মণ্ডপও থাকবে। রাজারহাটে এই দুর্গাঙ্গন তৈরি করতে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা খরচ হবে বলে জানা গিয়েছে। সবটাই ব্যয় হবে রাজ্য সরকারি কোষাগার থেকে।
ইতিমধ্যেই শিলিগুড়িতে বিরাট শিব মন্দির তৈরি করার জন্য বিনা পয়সায় ৫৪ বিঘা জমি দেওয়ার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। জমি চিহ্নিত করার কাজ চলছে বলেও জানা গিয়েছে। বিরোধীরা বলছে, রাজ্যে কয়েক হাজার স্কুল যখন বন্ধ হওয়ার মুখে, বেকারির হার যখন লাফিয়ে বাড়ছে, জিনিসপত্রের দাম আকাশছোঁয়া, তখন কোন এক বিশেষ ধর্মের মানুষের মন জুগিয়ে তাদের ভোট আদায়ের লক্ষ্যে সরকারি কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ কেন? রাজ্য সরকার বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক ও ধর্মকেন্দ্রিক বা জাতপাতের রাজনীতির অভিযোগ সুর চড়ায়। অথচ রাজ্য সরকারও কেন্দ্রের মতোই একই পথে হাঁটছে, একের পর এক মন্দির নির্মাণ করছে। এর আগে বাংলায় এমন রাজনীতি ছিল না। বিজেপির কট্টর হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মোকাবিলায় মমতা ব্যানার্জীর দল এবং সরকারও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির প্রতিযোগিতায় নেমেছে।
সামনে বিধানসভা নির্বাচন। বেকারি, তোলাবাজি, দুর্নীতি নিয়ে তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হতে শুরু করেছে। উত্তরবঙ্গ জুড়ে তৃণমূল এবং বিজেপির প্রাকৃতিক সম্পদ লুঠ সেখানকার মানুষের মধ্যে তৈরি করেছে ক্ষোভ। এই জায়গায় দাঁড়িয়ে মানুষ যখন বিজেপি-তৃণমূলের বাইনারি থেকে সরে বিকল্প খুঁজছে, তখন নতুন করে সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য মন্দিরের রাজনীতি শুরু করেছেন মমতা ব্যানার্জী।
অক্টোবরে উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়ে দার্জিলিঙে দাঁড়িয়ে শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমবার নিউটাউনে ‘দুর্গা অঙ্গন’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সেই মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসের দিনও ঘোষণা করে দিলেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী। জানিয়ে দিলেন নতুন বছরের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহেই শিলান্যাস করবেন তিনি। নিউটাউন বাস স্ট্যান্ডের বিপরীতে অ্যাকশন এরিয়া–ওয়ানে তৈরি হবে ‘দুর্গা অঙ্গন’। এদিন শিলান্যাস করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে এই অঙ্গন তৈরির কাজ শেষ হবে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, দীঘায় জগন্নাথ ধামে গতকাল এক কোটি দর্শনার্থী এসেছিলেন। জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করা হবে।








