মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধের মধ্যেই জান্তার নির্বাচন: বিমান হামলায় ৯ বেসামরিক নিহত
দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল রাতে রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় একই পরিবারের শিশুসহ অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। তবে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো (যেমন- আরাকান আর্মি, কেএনইউ) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা জান্তার এই নির্বাচনী নাটক মেনে নেবে না এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ফলে নতুন বছরে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মায়ানমারের সেনাজান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং
নতুন পয়গাম, ইয়াঙ্গুন ও ব্যাংকক: দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকার দেশটিতে সাধারণ নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু করেছে। তবে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে সহিংসতা ও বিমান হামলা আরও তীব্র হয়েছে। গতকাল রাতে রাখাইন রাজ্যে জান্তা বাহিনীর ভয়াবহ বিমান হামলায় একই পরিবারের শিশুসহ অন্তত ৯ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন।

২৮ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া এই নির্বাচনের প্রথম ধাপে জান্তা সমর্থিত দল ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (USDP) বিপুল জয়ের দাবি করেছে। ১০২টি আসনের মধ্যে ৮২টিতেই নিজেদের জয়ী ঘোষণা করেছে জান্তা সমর্থিত এই দল। অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি (NLD) এই নির্বাচনে অংশ নেয়নি। এছাড়া দেশের প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে যেখানে বিদ্রোহীদের সাথে যুদ্ধ চলছে, সেখানে কোনো ভোট গ্রহণ করা সম্ভব হয়নি।
নির্বাচনী কার্যক্রম চলাকালেই রাখাইন রাজ্যের থান্ডওয়ে (Thandwe) এলাকায় জান্তা বাহিনী বিমান হামলা চালায়। স্থানীয় সূত্রমতে, একটি আবাসিক এলাকায় বোমা বর্ষণে ৯ জন প্রাণ হারান। বিদ্রোহীদের দমনের নামে চালানো এই হামলায় সাধারণ মানুষের মৃত্যুতে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো।
মিয়ানমারের এই নির্বাচনকে বিশ্বনেতারা মিশ্র সমালোচনা করেছেন। জাতিসংঘ এই নির্বাচনকে “মিথ্যা ও প্রহসন” বলে আখ্যা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন জানিয়েছে, সু চি ও অন্যান্য রাজনৈতিক বন্দীদের মুক্তি না দেওয়া পর্যন্ত এই নির্বাচনের কোনো বৈধতা নেই। রাশিয়ার পাশাপাশি চীন এইনির্বাচনকে পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, বেইজিং মিয়ানমারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে একটি মাধ্যম হিসেবে দেখছে।

নির্বাচনের প্রথম ধাপ শেষ হলেও আগামী জানুয়ারি মাসজুড়ে দেশটির অন্যান্য অঞ্চলে ধাপে ধাপে ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। তবে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো (যেমন- আরাকান আর্মি, কেএনইউ) সাফ জানিয়ে দিয়েছে, তারা জান্তার এই নির্বাচনী নাটক মেনে নেবে না এবং প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ফলে নতুন বছরে মিয়ানমারে গৃহযুদ্ধ আরও ভয়াবহ রূপ নেওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন








