ট্রোল থেকে হুমকি, মেসির সঙ্গে ছবি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন শুভশ্রী
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
কলকাতার যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে লিওনেল মেসির উপস্থিতি ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি ছবি। মেসির পাশে দাঁড়িয়ে তোলা সেই ছবিকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় বিতর্ক, ট্রোলিং এবং ব্যক্তিগত আক্রমণ। ঘটনার দুদিন পর অবশেষে মুখ খুললেন শুভশ্রী। এক ভিডিয়ো বার্তায় তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন এবং সেই সঙ্গে তুলে ধরলেন একজন নারী ও মা হিসেবে তাঁর যন্ত্রণার কথা।
শুভশ্রী জানান, তিনি ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। একটি পাঁচতারা হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্য শিল্পপতি, সাংবাদিক ও অতিথিদের সঙ্গে তাঁরও মেসির সঙ্গে ছবি তোলার সুযোগ হয়। পরে আয়োজকদের অনুরোধে তিনি যুবভারতী স্টেডিয়ামেও যান। সেখানে একটি নির্দিষ্ট টেন্টে তিনি অন্যান্য অতিথিদের সঙ্গে বসেছিলেন। মাঠের বিশৃঙ্খলার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ যোগ ছিল না বলেই স্পষ্ট করেন অভিনেত্রী। তিনি বলেন, প্রযুক্তিগত সমস্যার কারণে তাঁর মেসির সঙ্গে তোলা ছবিটি দেরিতে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট হয়। কিন্তু সেই দেরিতেই পরিস্থিতি অন্য রকম হয়ে যায়। ছবি ভাইরাল হওয়ার পর তাঁকে নিয়ে নানা রকম কটূক্তি, গালাগালি শুরু হয়। এমনকি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন টেনে এনে রাজনৈতিক রঙ দেওয়ার চেষ্টাও করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ভিডিয়ো বার্তায় শুভশ্রী বলেন, একজন অভিনেত্রী এবং একজন নারী হিসেবে তিনি সমালোচনা মেনে নিতে পারেন। সাধারণ মানুষের হতাশা, ক্ষোভ তিনি বুঝতে পারেন বলেও জানান। কিন্তু পরিস্থিতি তখনই অসহনীয় হয়ে ওঠে, যখন তাঁর দুই ছোট সন্তানের দিকে আক্রমণ ঘুরে যায়। শিশুদের ক্ষতি করার হুমকি পর্যন্ত তিনি পেয়েছেন বলে দাবি করেন শুভশ্রী। একজন মা হিসেবে সেই আঘাত কোনওভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয় বলেই জানান তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, তিনি কোনও রাজনীতিবিদ নন, কোনও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতাও তাঁর হাতে নেই। তিনি শুধুমাত্র একজন আমন্ত্রিত অতিথি ছিলেন। মেসিকে দেখার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের পথে তিনি কোথাও বাধা হয়ে দাঁড়াননি বলেও দাবি করেন। তবুও কেন তাঁকেই বারবার নিশানা করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। শুভশ্রী তাঁর বক্তব্যে আবেদন জানান, প্রতিবাদ হোক, প্রশ্ন উঠুক, কিন্তু তার মধ্যে যেন মানবিকতা না হারায়। বিশেষ করে শিশুদের টেনে এনে আক্রমণ যেন না করা হয়। তিনি বলেন, “আমরা সবাই একই সমাজে বাস করি। একে অন্যের প্রতি সামান্য সহানুভূতি থাকলেই অনেক কিছু বদলে যেতে পারে।”
এই ঘটনার মাধ্যমে আবারও সামনে এল, সোশ্যাল মিডিয়ার বিচার কতটা নির্মম হতে পারে এবং কীভাবে একটি ভুল বোঝাবুঝি ব্যক্তিগত আক্রমণে রূপ নিতে পারে। শুভশ্রীর বক্তব্য সেই প্রশ্নই নতুন করে সামনে আনল ম সমালোচনার নামে আমরা কোথায় গিয়ে থামছি?








