আমার বারোটা বছর ফিরিয়ে দাও, আমাদেরও দ্বিতীয় জীবন আছে
আব্দুল গফফার, নতুন পয়গাম, কলকাতাঃ
পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ। কলকাতার আশুতোষ শতবার্ষিকী হল একেবারে দখল নিয়ে ফেলেছে দমদম এবং প্রেসিডেন্সি সংশোধানাগার ও কলকাতা পুলিশ বাহিনী এবং আধিকারিকেরা। না ওদের গ্রেফতার করতে নয়। ওদের সংশোধনাগার পূর্বতন কারাগার থেকে সসম্মানে নিয়ে আসা হয়েছে সমাজের মূল স্রোতের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড তুলে ধরার জন্য। আসলে ওরাও তো সমাজের নাগরিক। ওরা অনিচ্ছাকৃত ভুল করে অপরাধ করলেও আইনের চোখে তারা অপরাধী। কারণ অপরাধের ভিন্নতা থাকলেও আইনের ধারা তো এক। কিন্তু ওরাও তো আর পাঁচটা মানুষের মত সাধারণ নাগরিক। সংশোধনাগারে আবাসিক জীবন কাটানোর পরেও ওদের যে দ্বিতীয় জীবন আছে সেটা উপলব্ধি করে ফেলেন কলকাতা উচ্চ আদালতের আইনজীবী সম্পূর্ণা দত্ত। তিনি তাঁর পেশার উর্ধ্বে গিয়ে শুধুমাত্র পরিষেবার ব্রত নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। সাজাপ্রাপ্ত আবাসিকদের জীবন কাহিনী নিয়ে এক অসাধারণ কাজ করে ফেলেছেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সংশোধনাগারে ঘুরে ঘুরে আবাসিক বন্দীদের জীবন, তাদের বঞ্চনা, অর্থের অভাবে সঠিক বিচার না পাওয়া এ সমস্ত কাহিনী নিয়েই তাঁর লড়াই।
শুক্রবার আশুতোষ শতবার্ষিকী হলে সাজাপ্রাপ্ত আবাসিকদের নিয়ে তাঁর প্রথম তথ্যচিত্র “আই অ্যাম এ সিটিজেন টু” প্রদর্শিত হল। তথ্যচিত্রটিতে মূলতঃ সংশোধনাগারের আবাসিকদের বন্দী জীবন নিয়ে নানান কাহিনী তুলে ধরা হয়েছে।
এদিন “আই অ্যাম এ সিটিজেন টু” শীর্ষক অনুষ্ঠানে দুটি সংশোধনাগারের প্রায় ৪০ জন আবাসিক বন্দী দেশাত্মবোধক সংগীত এবং নৃত্যে অংশগ্রহণ করে। এদিন রূপান্তর নামে এক বন্দী মুক্তিলাভ করে। তার আগামী জীবনের শুভ কামনা করে বেশ কিছু উপহার ও দশ হাজার টাকার অনুদান তুলে দেন আইনজীবী সম্পূর্ণা। ব্যতিক্রমী এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলকাতা উচ্চ আদালতের বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য, রাজ্যের মন্ত্রী উজ্জ্বল বিশ্বাস, বিশিষ্ট সমাজসেবী এবং নৃত্যশিল্পী অলকানন্দা রায়, অধ্যক্ষ ড. মানবী বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যসভার প্রাক্তন সাংসদ এবং রাজনৈতিক কর্মী কুণাল ঘোষ প্রমুখ।








