‘ওয়ান নেশন, ওয়ান এডুকেশন’? এক ছাতার নীচে উচ্চশিক্ষা, মন্ত্রিসভায় পাশের পর বিল আনছে মোদি সরকার
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় আর আলাদা আলাদা নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকবে না। একটাই সংস্থার অধীনে আসবে উচ্চশিক্ষাঙ্গনগুলো। মোদি সরকারের আনা নতুন জাতীয় শিক্ষা নীতিতে (NEP) আগেই একথা বলা হয়েছিল। ফলে এবার থেকে দেশের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বড়সড় পরিবর্তন আনসে চলেছে। শুক্রবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এই সংক্রান্ত বিলে সিলমোহর দিয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, পৃথক সংস্থার পরিবর্তে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থায় একটিই মাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC), সর্বভারতীয় কারিগরি শিক্ষা পর্ষদ (AICTE) এবং জাতীয় শিক্ষক প্রশিক্ষণ পর্ষদের (NCTE) পরিবর্তে একটিই নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করা হবে।
ওয়ান নেশন ওয়ান রেশন, ওয়ান নেশন ওয়ান ইলেকশন ইত্যাদির পর এবার উচ্চশিক্ষায় ওয়ান নেশন ওয়ান এডুকেশন নীতি আনতে চলেছে কেন্দ্র সরকার। সেই নীতিই এবার কার্যকর করার পথে হাঁটছে কেন্দ্র। আগে বিলটির নাম দেওয়া হয়েছিল হায়ার এডুকেশন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (HECI)। কিন্তু নতুন বিলটির নাম বদলে করা হয়েছে ‘বিকশিত ভারত শিক্ষা অধিক্ষণ বিল’। এর খসড়ায় বলা হয়েছে, নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থাটির তিনটি প্রধান ভূমিকা থাকবে, উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার উপর নিয়ন্ত্রণ, উচ্চশিক্ষার স্বীকৃতি প্রদান এবং উচ্চশিক্ষার পেশাগত মান নির্ধারণ।
তবে টাকাপয়সা সংক্রান্ত কোনও ক্ষমতা থাকবে না তাদের হাতে। অর্থাৎ কোথায় কত অর্থ বরাদ্দ হবে, কত খরচ হবে, সেই সংক্রান্ত সব ক্ষমতা ন্যস্ত থাকবে প্রশাসনের হাতে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের হাতে। কিন্তু উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক সংস্থার হাত থেকে অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে কেন? এ প্রশ্ন তুলে বিরোধীরা কেন্দ্রকে তোপ দেগে বলেছে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে লাটে তুলে দিয়ে এখন কেবল একের পর এক চমক দিচ্ছে মোদি সরকার।
সূত্রের খবর, নয়া প্রস্তাবটি কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অনুমোদন পেলেও মেডিক্যাল কলেজ এবং ল কলেজের উপর তাদের নিয়ন্ত্রণ থাকবে না। বর্তমানে দেশে কারিগরি শিক্ষা ব্যাতীত বাকি সব উচ্চশিক্ষা বিভাগের তদারকি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা UGC. উল্লেখ্য, ইউজিসি চালু করেছিলেন দেশের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ। এদিকে কারিগরি শিক্ষা বিভাগের তদারকির দায়িত্বে রয়েছে AICTE. এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত বিভাগের কাজকর্ম তদারকি করে NCTE. এই তিনটি সংস্থার পরিবর্তে অথবা এদেরকে জুড়ে দিয়ে নতুন একটি মাত্র নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠন করতে চায় কেন্দ্র সরকার। ঠিক যেভাবে কিছু ব্যাঙ্ককে উঠিয়ে দিয়ে বা কয়েকটি ব্যাঙ্ককে মার্জ বা একসঙ্গে করা হয়েছে।








