নাভিতে তেল মালিশে ফিরতে পারে ত্বকের জেল্লা?
ইয়াসমিন খাতুন
নতুন পয়গাম: শীতের মরসুমে ত্বকের শুষ্কতা, নিস্তেজ ভাব আর সূক্ষ্ম বলিরেখা বহু মানুষেরই পরিচিত সমস্যা। দামি প্রসাধনী ব্যবহার করেও অনেক সময় প্রত্যাশিত ফল মেলে না। ঠিক এই জায়গাতেই আবার নতুন করে আলোচনায় উঠে আসছে দিদিমা-ঠাকুরমার আমলের একটি পুরনো অভ্যাস নাভিতে তেল মালিশ।
প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদীয় ধারণায় নাভিকে শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ধরা হয়। বিশ্বাস করা হয়, এই অংশ দিয়ে শরীরের নানা স্নায়ু ও শক্তিবিন্দুর সঙ্গে সংযোগ থাকে। সেই কারণে নাভিতে তেল প্রয়োগ করলে ত্বক ও শরীরের অভ্যন্তরীণ আর্দ্রতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে পুষ্টিবিদ ও লাইফস্টাইল বিশেষজ্ঞদের একাংশও এই অভ্যাসের সম্ভাব্য উপকারিতার কথা বলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নাভিতে তেল মালিশ করলে শরীর শিথিল হয়, ত্বকের শুষ্কতা কমতে পারে এবং নিয়মিত অভ্যাসে ত্বকের স্বাভাবিক ঔজ্জ্বল্য বজায় রাখতে সাহায্য করতে পারে। তবে একক কোনও তেলের বদলে একাধিক তেল মিশিয়ে ব্যবহার করলে ফল আরও ভালো হতে পারে বলে মত দিচ্ছেন তাঁরা।
এই পদ্ধতিতে সাধারণত আমন্ড অয়েল, নারকেল তেল, ক্যাস্টর অয়েল কিংবা ভেষজ উপাদানযুক্ত তেল ব্যবহার করা হয়। রাতে ঘুমোনোর আগে মাত্র কয়েক ফোঁটা তেল নাভিতে দিয়ে হালকা হাতে মালিশ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এতে অতিরিক্ত সময় বা খরচ কোনোটাই খুব বেশি লাগে না। তবে চিকিৎসকদের একাংশ মনে করিয়ে দিচ্ছেন, এটি কোনও চিকিৎসা পদ্ধতি নয়। ত্বকের গুরুতর সমস্যা বা অ্যালার্জি থাকলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘরোয়া টোটকা হিসেবে এটি ত্বকের যত্নে সহায়ক হতে পারে, কিন্তু একে অলৌকিক সমাধান ভাবা ঠিক নয়। তবু ব্যস্ত জীবনে সহজ, কম খরচের এবং প্রাকৃতিক উপায়ে নিজেকে যত্নে রাখার প্রবণতা যাঁদের, তাঁদের কাছে নাভিতে তেল মালিশ আবার নতুন করে জায়গা করে নিচ্ছে পুরনো অভ্যাসের আধুনিক পুনরাবিষ্কার হিসেবেই।








