ব্রিগেডে প্যাটিস বিক্রেতাকে নিগ্রহের জের এটা গো-বলয় নয়, গেরুয়া শিবিরকে মমতার তোপ
নতুন পয়গাম, কলকাতা:
আমিষ-নিরামিষ বিতর্কের জেরে ব্রিগেডে গীতাপাঠের আসরে প্যাটিস বিক্রেতাকে মারধরের ঘটনায় গেরুয়া শিবিরকে তোপ দাগলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার কৃষ্ণনগর থেকে মুখ্যমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন উত্তরপ্রদেশ তথা গোবলয়ের সংস্কৃতি বাংলায় চলবে না। তাঁর কথায়, একটা গরিব হকার কিছু খাবারের জিনিস বিক্রি করতে গিয়েছিলেন। সব মিটিংয়েই এসব বিক্রিবাটা হয়। তাঁর মাথায় আসেনি তিনি কোনটা বেচবেন। তাঁকে মারধর করাটা অন্যায় হয়েছে। যারা একাজ করেছে তাদের সব কটাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এই মর্মে মুখ্যমন্ত্রী বঙ্গ বিজেপিকে হুমকি দিয়ে বলেন, এটা বাংলা, উত্তরপ্রদেশে নয়। এখানে তোমাদের হুকুম চলবে না।
প্যাটিসকাণ্ডের জেরে পুলিশ বুধবার রাতে তিন অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতদের পরিচয় সৌমিক গোলদার, স্বর্ণেন্দু চক্রবর্তী, তরুণ ভট্টাচার্য। প্রথম দুজনের বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনায়। ৫০ ঊর্ধ্ব তরুণের বাড়ি হাওড়ায়। বৃহস্পতিবার ধৃতদের আদালতে তোলা হয়। তাদের নামে জামিনযোগ্য ধারায় মামলা রুজু করা হয়। সেইমতো হাজার টাকার বন্ডে তাদের জামিন দেয় আদালত। তারপর উত্তরপ্রদেশের কায়দায় তাদেরকে ফুল-মালা দিয়ে এবং উত্তরীয় পরিয়ে বরণ করেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে আতঙ্কে রয়েছেন আরামবাগের কেশবপুরের বাসিন্দা প্যাটিস বিক্রেতা রিয়াজুল ও তার পরিবার।
গীতাপাঠের মতো মতো ধর্মীয় কর্মসূচেত একজন হকারকে মারধরের প্রতিবাদে সমাজের সর্বস্তর থেকে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিজেপি বাদে সব রাজনৈতিক দল এই ঘটনার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে। দোষীদের শাস্তি চেয়েছেন সমাজের বিশিষ্ট মানুষজন। তারা বলেছেন, কে কী খাবেন, সেটা তাঁর ব্যক্তিগত রুচি। সেখানে অন্যের হস্তক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়। নিরীহ ওই প্যাটিস বিক্রেতা আর পাঁচজন হকারের মতোই রবিবার তাঁর খাবার বেচতে গিয়েছিলেন। সেক্ষেত্রে গীতাপাঠের আয়োজকদের আপত্তি থাকলে তাঁরা আগাম জানাতেই পারতেন। তা না করে তার কেন মারধর করা হল। এটা মেনে নেওয়া যায় না। কারণ, এটা পশ্চিমবাংলা, এটা উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ নয়।








