পাকা সেতুর অভাবে প্রাণহানি: শালী নদীর বাঁশের সাঁকো থেকে পড়ে মৃত্যু যুবকের
তৌসিফ আহম্মেদ, নতুন পয়গাম, বাঁকুড়া:
হাজার আবেদন-নিবেদনেও মেলেনি পাকা সেতু। তারই মাশুল দিতে হল এক গ্রামবাসীকে। অসুস্থ শিশুপুত্রের জন্য ওষুধ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে নড়বড়ে ও বিপজ্জনক বাঁশের সাঁকো থেকে প্রায় ৩৫ ফুট নিচে শালী নদীর গর্ভে পড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল এক যুবকের। ঘটনাকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে এলাকায়।
ঘটনাটি বাঁকুড়ার ইন্দাস থানার ভগবতীপুর গ্রামের। গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে শালী নদী। সারা বছর নদীর গর্ভ শুকনো থাকলেও বর্ষায় তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ভগবতীপুর গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথেই এই নদী থাকায় দীর্ঘদিন ধরেই এখানে একটি পাকা সেতুর দাবি জানিয়ে আসছেন গ্রামবাসীরা। একাধিকবার আবেদন-নিবেদনের পর মাটি পরীক্ষার কাজ হলেও আজ পর্যন্ত সেতু নির্মাণে কোনও বাস্তব উদ্যোগ চোখে পড়েনি। বাধ্য হয়েই গ্রামের মানুষজন নিজেদের উদ্যোগে অস্থায়ী বাঁশের সাঁকো তৈরি করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভগবতীপুর গ্রামের ৩৪ বছর বয়সী বাসিন্দা সঞ্জয় ঘোষ গতকাল রাতে অসুস্থ শিশুসন্তানের জন্য বাইকে করে রসুলপুর বাজারে ওষুধ আনতে যান। ফেরার পথে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পার হওয়ার সময় ভারসাম্য হারিয়ে বাইকসহ প্রায় ৩৫ ফুট নিচে নদীগর্ভে পড়ে যান তিনি। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা নদীর বালির মধ্যে তাঁকে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। দ্রুত উদ্ধার করলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে ইন্দাস থানার পুলিশ দেহটি উদ্ধার করে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পাশাপাশি ফের একবার শালী নদীর উপর পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন সময়মতো উদ্যোগ নিলে এমন প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা এড়ানো যেত।








