শ্রমিক-মালিক অসন্তোষে ফের বন্ধ ডুয়ার্সের চা বাগান
প্রীতিময় সরখেল, নতুন পয়গাম, জলপাইগুড়িঃ
শ্রমিক–মালিক অসন্তোষে ফের বন্ধ ডুয়ার্সের চা বাগান, কর্মহীন ১,০৭৬ শ্রমিক। বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগান বিনা নোটিশে ছেড়ে রাতের অন্ধকারে পালিয়ে গেল মালিক কর্তৃপক্ষ। ক্ষোভে বাগান গেটে বিক্ষোভ শ্রমিকদের।
শ্রমিক–মালিক অসন্তোষের জেরে ফের বন্ধ হয়ে গেল ডুয়ার্সের আরও একটি চা বাগান। শুক্রবার গভীর রাতে বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগান ছেড়ে পালিয়ে যায় মালিকপক্ষ। এর জেরে এক ধাক্কায় কর্মহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় ১,০৭৬ জন চা শ্রমিক।
শনিবার সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে গিয়ে শ্রমিকরা দেখেন, বাগানে নেই কোনও কর্তৃপক্ষ, এমনকি বাগানের ভিতরে নেই কোনও গাড়িও। বিষয়টি জানাজানি হতেই দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং শত শত চা শ্রমিক ভিড় জমান বাগানের কারখানার গেটের সামনে। বন্ধ বাগান ঘিরে শুরু হয় বিক্ষোভ।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রাক্তন নাগরাকাটা বিধায়ক সুখমইত ওরাও এবং তৃণমূল কংগ্রেস নেতা জন বারলা। তাঁরা শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন।
চা শ্রমিকদের অভিযোগ, মালিক কর্তৃপক্ষ দীর্ঘদিন ধরেই বেতন ও মজুরি বকেয়া রেখে দিয়েছেন। পুজোর বোনাসও এখনও পর্যন্ত প্রদান করা হয়নি। একাধিকবার বকেয়া মজুরি ও প্রাপ্য টাকার দাবিতে মালিকপক্ষের কাছে জানানো হলেও কোনও সুরাহা মেলেনি। অভিযোগ, কোনও রকম পাওনা মেটানো ছাড়াই শুক্রবার রাতে গোপনে বাগান ছেড়ে পালিয়ে যান মালিকপক্ষ।
শ্রমিকদের স্পষ্ট দাবি, প্রশাসন দ্রুত হস্তক্ষেপ করে মালিক কর্তৃপক্ষকে ধরে এনে বাগান চালুর ব্যবস্থা করুক এবং সমস্ত বকেয়া মজুরি ও বোনাস অবিলম্বে পরিশোধ করাক। অন্যথায় আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের পথে হাঁটার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তাঁরা।
আশ্রিতা ওরাও, চা শ্রমিক বলেন, “মালিকের সঙ্গে আমাদের কোনও ঝামেলা হয়নি, বোনাস বকেয়া রয়েছে, আমাদের মজুরি বকেয়া রয়েছে। আমরা কোনও আন্দোলন করিনি, অথচ রাতের অন্ধকারে বাগান ছেড়ে পালিয়ে গেছে মালিক। সকালে কাজে এসে দেখি গেটে তালা ঝুলছে।”
চা শ্রমিক মঞ্জু ওরাও বলেন, “বাৎসরিক দুটি ছুটি বাকি রয়েছে, চার সপ্তাহের মজুরি বকেয়া। তার পরেও বাগান মালিকদের কথা মেনে আমরা কাজ করছিলাম। গত জুন মাস থেকে সবকিছু স্বাভাবিক হবে বলে আশ্বাস দেন, কিন্তু তারপরেও কোনও অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। অর্ধ-অনাহারে আমাদের দিন কাটাতে হচ্ছে। আমরা চাই বাগান কর্তৃপক্ষকে এনে বাগান চালানোর ব্যবস্থা করা হোক, তা না হলে নতুন মালিকানা হোক।”
সুখমইত ওরাও, প্রাক্তন সিপিআইএম বিধায়ক বলেন, “মোগলকাটা একটি ভালো চা বাগান, তারপরও মালিক কর্তৃপক্ষ এই ধরনের আচরণ করবে ভাবতেই পারছি না। শ্রমিকদের অথৈ জলে ফেলে দিয়ে তারা পালিয়ে গেছে। এর আগে বলতো মামা বলে চা বাগান নাকি সবথেকে বেশি বন্ধ ছিল, এখনকার ছবি দেখে পরিষ্কার যে সরকারের সঙ্গে চা বাগান মালিক কর্তৃপক্ষের কোনও তালমেল নেই। আর বাগান কর্তৃপক্ষ সরকারকে ভয় পায় না।”

তৃণমূল নেতা জন বারলা বলেন, “মালিক কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদের মৃত্যুর মুখে ছেড়ে চলে গেছেন, এটাকে কোনও ভাবেই মানা যায় না। শ্রমিকদের অধিকার রয়েছে তাদের দাবি আদায়ের। বকেয়া মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা ম্যানেজারের কাছে গিয়েছিলেন শুক্রবার, তখন তিনি নাকি জানিয়েছিলেন সন্ধ্যার মধ্যে তারা টাকা পেয়ে যাবেন। আর রাতের বেলায় মালিক কর্তৃপক্ষ তালা মেরে সেখান থেকে পালিয়ে গেছে। মালিক কর্তৃপক্ষ জেনে-বুঝে এ সমস্ত কাণ্ড ঘটাচ্ছে। চা বাগানে যে লাভ হচ্ছে, সেটাকে অন্য কোনও ব্যবসায় লাগাচ্ছে, আর শ্রমিকদের মজুরি, বোনাস এগুলো দিচ্ছে না। সোমবার দিন ত্রিপাক্ষিক বৈঠক দেখা হয়েছে। দেখা যাক কী হয়।”







