মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সপ্তম এসএলএসটি প্রাইমারি–আপার প্রাইমারি নিয়োগে আইনি জট
নতুন পয়গাম, কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের সপ্তম এসএলএসটি-র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকেই প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে। ২০২৩ সালের ৪ মে সার্ভিস কমিশন বিজ্ঞপ্তি জারি করলেও সেই থেকেই শুরু হয় একের পর এক আইনি দ্বন্দ্ব। এর জেরে নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি নিয়োগ আজও অনিশ্চিত।
২০২৩ সালের ১২ মে থেকে ১২ জুন পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়। কিন্তু আবেদন করতে দেওয়া হয়েছিল কেবলমাত্র যাদের শিক্ষক প্রশিক্ষণ ডিগ্রি ছিল। পাঠরত বি.এড ও ডিএলএড ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন করতে দেওয়া হয়নি। এনসিটিই-র গাইডলাইন অনুসরণ করে তারা হাইকোর্টে মামলা করলে আদালত কমিশনকে তাদের আবেদন গ্রহণের নির্দেশ দেয়। এর পর আবেদনের সময়সীমা বাড়ানো হয় ১৯ জুন ২০২৩ পর্যন্ত।
২০২৪ সালের ২৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি টেট পরীক্ষা। ফল প্রকাশ হয় প্রায় ১১ মাস পর ২১ ডিসেম্বর ২০২৪। টেট উত্তীর্ণ প্রার্থীদের নথি যাচাই করা হয় ৩১ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি ২০২৫ পর্যন্ত। নথি যাচাই শেষে ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয় মেন পরীক্ষা।
তারপর ফের নতুন মামলা করেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। তাদের দাবি, টেট ও মেন পরীক্ষার জন্য আলাদা ফর্ম ফিলাপ ছিল না, তাই টেট ফর্মের শেষ তারিখ অর্থাৎ ১৯ জুন ২০২৩-ই হওয়া উচিত যোগ্যতা নির্ধারণের কাট-অফ ডেট। পাঠরত অবস্থায় যারা টেট পাস করেছিল, তাদের বাদ দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে, টেট পরীক্ষার সময় বি.এড / ডিএলএড ‘পার্সুইং’ অবস্থায় থাকা প্রার্থীদের দাবি,
এনসিটিই গাইডলাইন অনুযায়ী পাঠরত অবস্থায় টেট দেওয়া বৈধ। মেন পরীক্ষার আগে তাদের ডিগ্রি সম্পূর্ণ হয়েছিল। কমিশন তাদের নথি যাচাই করে নিজেই মেন পরীক্ষায় বসার অনুমতি দিয়েছে। তাই টেট-পরবর্তী নথি যাচাইয়ের তারিখই হওয়া উচিত কাট-অফ ডেট। তাদের আরও দাবি, নবম–দ্বাদশ শ্রেণির নিয়োগে বাদ পড়া তারা মেনে নিলেও প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি থেকে বাদ পড়লে, মেনে নেবেন না। প্রাইমারি বোর্ডের মতো ইন্টারভিউয়ের আগে নতুন ফর্ম ফিলাপ চালু করে নতুন কাট-অফ ডেট নির্ধারণেরও প্রস্তাব দেন তারা।
ধূসর পরিস্থিতির মধ্যে সকলের নজর এখন কলকাতা হাইকোর্টে ১৫ ডিসেম্বর নির্ধারিত শুনানির দিকে। প্রার্থীরা মনে করছেন চূড়ান্ত রায় ওই দিন নাও আসতে পারে, আবারও নতুন তারিখ পড়ার সম্ভাবনাই বেশি। তবে বহুদিনের অপেক্ষার পর এই শুনানিই এখন শিক্ষক পদপ্রার্থীদের একমাত্র আশার আলো।
প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি নিয়োগ প্রক্রিয়া কবে গতি পাবে, তা নির্ভর করছে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর। কমিশন, প্রার্থী এবং গোটা শিক্ষাব্যবস্থা নজর রাখছে বহুল আলোচিত এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।








