এসআইআর: বিহারে কত রোহিঙ্গা, বাংলাদেশী? জবাব দিতে পারল না কেন্দ্র
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
এসআইআর করে বিহারে কত রোহিঙ্গা, কত বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারী বা কত বিদেশি পাওয়া গেল? এ প্রশ্নের জবাব দিতে পারল না কেন্দ্র সরকার। এসআইআর-এর উদ্দেশ্য ভুয়া, অবৈধ ও অনুপ্রবেশকারী ভোটার চিহ্নিত করা হলেও জাতীয় নির্বাচন কমিশন বিহারে কতজন ‘বিদেশি’ চিহ্নিত করেছে, তা জানা গেল না। চলতি শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে এসআইআর নিয়ে দুদিন ধরে আলোচনা চললেও সরকারিভাবে এ বিষয়ে কিছুই জানানো হয়নি।
অগত্যা, বিরোধীরা এ বিষয়ে কিছু তথ্য দিলে সরকার জানায়, কে বিদেশি কিংবা কে ভারতীয় নাগরিক নন, তা নির্ণয়ের ভার কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের, নির্বাচন কমিশনের নয়। অথচ এসআইআর করতে নির্বাচন কমিশন যাকিছু করছে, তাতে স্পষ্ট যে কমিশনই নাগরিকত্ব নির্ধারণের ঠিকা নিয়েছে, এমনই অভিযোগ বিরোধীদের। সুপ্রিম কোর্ট এ ব্যাপারে কমিশনকে একাধিকবার ধমকেছে। অর্থাৎ ভোটার তালিকা সংশোধন করার অধিকার থাকলেও নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্ব নির্ধারণের অধিকারী নয়।

বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী এই নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে খোলাখুলি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন। অমিত শাহ অবশ্য সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেননি। বরং বিতর্কের সময় বিরোধী নেতা রাহুল গান্ধী সম্পর্কে ‘অসংসদীয়’ শব্দ উচ্চারণ করে তিনি বিতর্কে জড়িয়েছেন। এদিকে বিরোধীদের আনা প্রশ্নগুলোর উত্তর না পেয়ে এবং অমিত শাহের জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে বিরোধীরা লোকসভা থেকে ওয়াক আউট করেন। সেই সময়েও অমিত শাহ বিরোধীদের বিদ্ধ করে বলেন, ওদের মূল লক্ষ্য ‘ঘুসপেটিয়াদের’ ভোটে ক্ষমতায় থাকা। তাই নাকি তারা এসআইআরের বিরোধিতা করছে।
বিরোধীরা সংসদের উভয় কক্ষে বারবার জানতে চেয়েছেন, বিহারে এসআইআরের পর কতজন ‘বিদেশি’ চিহ্নিত হল। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একবারও সে প্রশ্নের জবাব দেননি। নির্বাচন কমিশনও এ বিষয়ে চুপ রয়েছে। কেজরিওয়ালের দলের সাংসদ সঞ্জয় সিং বলেছেন, বিহারে এসআইআরের শুরু থেকে বিজেপি অনুপ্রবেশকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে দেখিয়েছিল। অথচ এসআইআর করে নির্বাচন কমিশন নাকি মাত্র ৩১৫ জন বিদেশিকে খুঁজে পেয়েছে। তার মধ্যে মাত্র ৭৮ জন মুসলমান, বাকিরা নেপালি হিন্দু। সঞ্জয় সিংয়ের এই দাবি শাসক দলের কেউ কিংবা কমিশন কেউই খণ্ডন করেননি। আবার তারা কেউ সঠিক তথ্যও দেয়নি।








