বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে পালিত হলো সুন্দরবন দিবস
হাসান লস্কর, নতুন পয়গাম, দক্ষিণ ২৪ পরগনা:
১১ ডিসেম্বর সুন্দরবন উপকূলবর্তী ব্লকগুলোতে পালিত হলো সুন্দরবন দিবস। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ অরণ্য হিসেবে পরিচিত সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, জীববৈচিত্র্য এবং পরিবেশগত গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতেই প্রতিবছর এই দিনটি উদযাপন করা হয়। ২০০২ সাল থেকে সুন্দরবন লাগোয়া বিভিন্ন এলাকায় এই দিবস পালিত হয়ে আসছে।
এদিন দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার কুলতলী, ক্যানিং, গোসাবা, বাসন্তী, জয়নগর ১ ও ২, সাগর, নামখানা ও পাথরপ্রতিমা ব্লকসহ সুন্দরবনের বিস্তৃত অঞ্চলে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে দিবসটি উদযাপন করা হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে। শোভাযাত্রায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে অংশ নেন প্রশাসনিক আধিকারিক, জনপ্রতিনিধি ও সুন্দরবনপ্রেমী বহু মানুষ। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণ ছিল আদিবাসী নৃত্য ও টুসু নাচ, যা সুন্দরবনের সংস্কৃতিকে আরও উজ্জ্বল করে তোলে।
সুন্দরবনের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার বার্তা দিতে প্রায় ৩০০ জনের হাতে চারাগাছ বিতরণ করা হয়। বক্তারা জানান, একের পর এক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ধাক্কায় সুন্দরবনের নানা অঞ্চলের নদীবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিমধ্যেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সেচ দফতরকে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধগুলির মেরামতির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ অরণ্য বহু বছর ধরে প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে উপকূলবর্তী মানুষকে রক্ষা করছে। কিন্তু বনাঞ্চলের ক্ষয় ও নষ্ট হওয়া আজ বড় উদ্বেগের কারণ। তাই ম্যানগ্রোভ পুনর্জন্ম ও সংরক্ষণই এবারের দিবসের মূল বার্তা। এছাড়া সুন্দরবনের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে আরও নতুন পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়। সুন্দরবনের অনন্য জীববৈচিত্র্য- বিশেষত রয়েল বেঙ্গল টাইগার, নানা প্রজাতির পাখি, জলজ প্রাণী এবং অদ্ভুত ম্যানগ্রোভ গাছপালা, যা দূরদূরান্তের পর্যটকদের টেনে আনে। সুন্দরবন দিবসের মূল উদ্দেশ্য এই অনন্য প্রাকৃতিক সম্পদকে ভালোবাসা ও সংরক্ষণ করা।







