বিমানবন্দরই নেই এই পাঁচ দেশে
নতুন পয়গাম, ব্রিসবেন:
এক দেশ থেকে ভিন দেশে যেতে হলে, এমনকি এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে যেতে হলেও অনেকে বিমানে সওয়ার হন। কিন্তু এমন কয়েকটি দেশ রয়েছে, যেসব দেশে বিমানবন্দরই নেই। ভাবছেন, এমনটা আবার হয় নাকি! তাহলে ওইসব দেশে মানুষ কীভাবে যায়? একবিংশ শতাব্দীতেও এমন পাঁচটি দেশ আছে, যাদের দেশে এয়ারপোর্টই নেই। এসব দেশে যেতে হলে কখনো মনোরম সড়কপথ, কখনো নৌযাত্রা, আবার কখনো দুর্গম পথে পাড়ি দিতে হয়। প্রশান্ত মহাসাগরের লুকানো দ্বীপ থেকে ইউরোপের নির্জন কোণ — এসব দেশে পৌঁছানো যেমন চ্যালেঞ্জিং, তেমনই দারুণ অভিজ্ঞতার দরজা খুলে দেয়।
লিখটেনস্টাইন: এটি মধ্য ইউরোপের ছোট দেশ। চতুর্দিকে স্থলসীমা। দেশটি অস্ট্রিয়া ও সুইজারল্যান্ডের মাঝখানে অবস্থিত। দেশটিতে রাজতন্ত্র রয়েছে। তবে উচ্চ মাথাপিছু আয়, শক্তিশালী ব্যাংকিং ব্যবস্থা, কম অপরাধ এবং শিল্পোন্নত অর্থনীতির জন্য পরিচিত। সরকারি ভাষা জার্মান, রাজধানী ভাদুজ। মুদ্রা সুইস ফ্রাঁ। মাত্র ৬২ বর্গমাইল বা ১৬০ বর্গকিমি. আয়তনের লিখটেনস্টাইন বিশ্বের ষষ্ঠ ক্ষুদ্রতম দেশ। এটি মনোরম ইউরোপীয় আল্পস পর্বতের আপার রাইন ভ্যালিতে অবস্থিত।

দেশটিতে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই, তবে বালজার্সে একটি হেলিপোর্ট আছে। নিকটতম বিমানবন্দরের মধ্যে আছে সুইজারল্যান্ডের সেন্ট গ্যালেন, আলটেনরাইন এবং জার্মানির ফ্রিডরিখশাফেন।
মোনাকো: বিশ্বের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ মোনাকো, যা ফ্রেঞ্চ রিভেইরার কোলে অবস্থিত এক আভিজাত্যপূর্ণ অঞ্চল। বিলাসবহুল জীবনযাপন, ক্যাসিনো এবং আইকনিক গ্রাঁ-প্রির জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত এই দেশ। মোনাকো রাষ্ট্রসংঘের সদস্য হলেও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়; অথচ এখানে ইউরো মুদ্রা ব্যবহার করা হয়।
দেশটিতে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই, তবে ফন্টভিয়েতে একটি হেলিপোর্ট আছে। কাছের বিমানবন্দর ফ্রান্সের নিসকোট দাজুর। সেখান থেকে ট্রেন, বাস বা ফ্রেঞ্চ রিভেইরার সড়কপথে মোনাকো যাওয়া যায়। নিসকোট থেকে হেলিকপ্টারেও যাওয়া যায়।
ভ্যাটিকান সিটি: পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট স্বাধীন রাষ্ট্র ভ্যাটিকান সিটি, যা ইতালির রোম শহরের মধ্যে অবস্থিত একটি নগর রাজ্য। এটি রোমান ক্যাথলিক চার্চের প্রশাসনিক ও আধ্যাত্মিক কেন্দ্র এবং সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকা, ভাটিকান মিউজিয়াম, সিস্টাইন চ্যাপেলসহ অনেক ঐতিহাসিক স্থাপনায় সমৃদ্ধ। ১৯২৯ সালে ল্যাটারান চুক্তির মাধ্যমে আধুনিক ভ্যাটিকান সিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। নিজস্ব সরকার, মুদ্রা ইউরো, ডাক বিভাগ ও পুলিশ বাহিনী আছে দেশটির। এর জনসংখ্যার বড় অংশই ধর্মযাজক ও কর্মীদের নিয়ে গঠিত। নিকটতম বিমানবন্দর রোমের লেওনার্দো দা ভিঞ্চি। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে, ট্যাক্সিতে বা যানবাহনে সহজেই ভ্যাটিকান সিটিতে যাওয়া যায়। রোমের কেন্দ্রস্থলে অবস্থান হওয়ায় এই নগর রাজ্যে যাতায়াত অত্যন্ত সহজ।

সানম্যারিনো: চারদিকে ইতালির স্থলসীমা পরিবেষ্টিত ছোট্ট পর্বত রাষ্ট্র সান ম্যারিনো, যা বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্র। এটি ৩০১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিষ্ঠিত। রাজধানী সিটা ডি সান ম্যারিনো মধ্যযুগীয় সৌন্দর্য অনবদ্য। পর্যটন এ দেশের প্রধান আয়ের উৎস। পাশাপাশি সিরামিক, টেক্সটাইল, ওয়াইন-সহ বিভিন্ন শিল্প আছে।
সান ম্যারিনোতে কোনো বাণিজ্যিক বিমানবন্দর নেই, তবে বোরগো মাজিওরে একটি হেলিপোর্ট এবং টোরাচ্চিয়ায় একটি ছোট ঘাসের রানওয়ে আছে। নিকটতম প্রধান বিমানবন্দর রিমিনির ফেদেরিকো ফেলিনি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং বোলোনিয়া গুইলেমো মারকোনি বিমানবন্দর। সেখান থেকে গাড়ি, বাস বা বিভিন্ন যানবাহনে সান ম্যারিনো যাওয়া যায়।
অ্যান্ডোরা: স্পেন ও ফ্রান্সের মাঝখানে পিরিনিজ পর্বতমালায় অবস্থিত ছোট্ট রাজ্য অ্যান্ডোরা। মনোরম পাহাড়, বিশ্বমানের স্কি রিসোর্ট এবং ডিউটি-ফ্রি কেনাকাটার জন্য বিখ্যাত। রাজধানী অ্যান্ডোরা লা ভেলা ইউরোপের সর্বোচ্চ উচ্চতার রাজধানী শহর। সরকারি ভাষা কাতালান এবং অর্থনীতি মূলত পর্যটন ও ব্যাংকিং খাতনির্ভর।
অ্যান্ডোরায় কোনো বিমানবন্দর নেই, সড়কপথেই যাতায়াত করতে হয়। স্পেন থেকে নিকটতম বিমানবন্দর হল আন্দোরা–লা সেউ দউর্জেল মাত্র ১২ কিমি. দূরে, ইয়েইদা–আলগুয়ের এবং জিরোনা–কস্টা ব্রাভা বিমানবন্দর।








