নিয়োগ দুর্নীতি ও শিক্ষার বেসরকারিকরণ ইস্যুতে এবিটিএ’র মালদা জেলা সম্মেলন
উমার ফারুক, নতুন পয়গাম, মালদাঃ
রাজ্যের নিয়োগ দুর্নীতি, শিক্ষার বেসরকারিকরণ, গৈরিকীকরণ এবং শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীদের বঞ্চনাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে আলোচনা ও পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে নিখিল বঙ্গ শিক্ষক সমিতির (এবিটিএ) মালদা জেলা শাখার একাদশ ত্রিবার্ষিক সম্মেলন রবিবার সফলভাবে শেষ হয়েছে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের সূচনা হয় শনিবার চাঁচল সিদ্ধেশ্বরী ইনস্টিটিউশনে ‘অধিক্রম সান্যাল নগর (চাঁচল)’ ও ‘আবু তাহের মঞ্চে’।
প্রথম দিনের কর্মসূচি শুরু হয় সমিতির জেলা সভাপতি সৈয়দ কাজিম আলীর হাতে পতাকা উত্তোলন এবং শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মধ্য দিয়ে। জেলার ১৭টি অঞ্চল থেকে ২৩৬ জন প্রতিনিধি এতে অংশ নেন। বর্ণাঢ্য মিছিল চাঁচল শহর পরিক্রমা করে এলআইসি মোড়ে প্রকাশ্য সমাবেশে পৌঁছয়, যেখানে ছাত্র আন্দোলনের নেতা প্রতিকুর রহমান শিক্ষার বেসরকারিকরণের পেছনে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের ‘যোগসাজোশের’ অভিযোগ তোলেন।
প্রকাশ্য সমাবেশে বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি সৌমেন অধিকারী ও সবুর আলি, জেলা সম্পাদক অরুণ কুমার প্রসাদসহ নেতারা। সৌমেন অধিকারী বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার বেহাল দশা, বকেয়া মহার্ঘ্যভাতা, দুর্নীতি ও পেনশন সমস্যার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। পর্যবেক্ষক সবুর আলি জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-কে কঠোর সমালোচনা করে শিক্ষার বেসরকারিকরণ, বাণিজ্যিকীকরণ ও সাম্প্রদায়িকীকরণের বিরুদ্ধে অবস্থান জানান।
দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত প্রতিনিধি সম্মেলনে ১৭টি অঞ্চল ও তিনটি মহকুমা শাখা থেকে ২৭ জন প্রতিনিধি সম্পাদকীয় প্রতিবেদনের ওপর আলোচনা করেন। ২০১১–এর পরবর্তী সময়ে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় “লাগামহীন দুর্নীতি” ও শিক্ষক–শিক্ষাকর্মীদের প্রতি “সরকারি বঞ্চনা”র অভিযোগ তীব্রভাবে উঠে আসে। বিদায়ী জেলা সম্পাদক অরুণ কুমার প্রসাদ জবাবী ভাষণ দেন।
এদিন রাজ্যের আগামী ২৬–২৮ ডিসেম্বর পশ্চিম মেদিনীপুরে অনুষ্ঠিতব্য রাজ্য সম্মেলনের জন্য ২৬ জন প্রতিনিধি নির্বাচিত হয়। বিদায়ী সভাপতি সৈয়দ কাজেম আলীর সমাপ্তি ভাষণের মধ্য দিয়ে এবিটিএ মালদা জেলা শাখার একাদশ ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের পরিসমাপ্তি ঘটে। সম্পূর্ণ প্রতিনিধি সম্মেলন পরিচালনা করেন সৈয়দ কাজেম আলী, মনোরঞ্জন দাস, শংকর সেনগুপ্ত, আনিসুর রহমান ও রীনা সোম মিত্র।







