লিমরা ট্যালেন্ট সার্চ পরিক্ষার ফলাফল প্রকাশ, শিগগিরই কৃতিদের সংবর্ধনা প্রদান
এম নাজমুস সাহাদাত, নতুন পয়গাম, মালদহ:
শিক্ষার্থীদের মেধা, সৃজনশীলতা ও দক্ষতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে লিমরা ফাউন্ডেশন আয়োজিত ‘লিমরা ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষা ২০২৫’ গত ২রা নভেম্বর রবিবার মালদহ জেলার বিভিন্ন কেন্দ্রে অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে পরিক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছিল। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য নির্দিষ্ট এই পরীক্ষা ঘিরে সকাল থেকেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। অভিভাবকদের আগমন, ছোটদের প্রস্তুতি, স্কুল প্রাঙ্গণে স্বেচ্ছাসেবকদের ব্যস্ততা সব মিলিয়ে দিনটি যেন একটি শিক্ষামুখী উৎসবে পরিণত হয়। এবছর জেলার নয়মৌজা হাই স্কুল, কালিয়াচক হাই স্কুল এবং জিবিএস হাই মাদ্রাসা মিলিয়ে প্রায় দুই হাজার দুইশত চুয়াল্লিশ শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে। বাংলা, গণিত, ইংরেজি, বিজ্ঞান ও সাধারণ জ্ঞান এই পাঁচটি বিষয়ে মাল্টিপল চয়েসভিত্তিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। দুপুর ১২টা থেকে ২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টাব্যাপী পরীক্ষা সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে নেওয়া হয়েছিল। পরিক্ষায় মোট ৭৬ টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। প্রতিটা শ্রেণী থেকে ২০ জন করে সর্বশ্রেণী থেকে ১৬০ জন কৃতিদের পুরস্কার ও সংবর্ধনা দেওয়া হবে আগামী ২৮ শে ডিসেম্বর মালদহ সানাউল্লাহ মঞ্চে। লিমরা ফাউন্ডেশনের এক্সাম কন্ট্রোলার সোহেল আলম বলেন, আমরা প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন কিছু করার চেষ্টা করি। এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার মূল উদ্দেশ্য হলো মেধাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে তাদের ভবিষ্যতে আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে সহায়তা করা। বড় পরিসরে পরীক্ষা দেওয়া শিক্ষার্থীদের বোঝাপড়া, আত্মবিশ্বাস ও মানসিক শক্তি অনেকটাই বাড়িয়ে দেয়। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীরা সাধারণত নিজেদের স্কুলের পরিচিত পরিবেশের মধ্যে পরীক্ষা দিয়ে থাকে। কিন্তু এমন একটি বৃহৎ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তারা নিজেকে অন্যদের সঙ্গে তুলনা করে মূল্যায়ন করার সুযোগ পায়। এতে প্রতিযোগিতার মনোভাব জাগ্রত হয় এবং নিজেদের ভুলত্রুটি বোঝার সুযোগও তৈরি হয়।
আয়োজক প্রতিষ্ঠানের রেজিস্ট্রার আরিফ আলি জানান, প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে শুরু করে পরীক্ষা গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ সব ক্ষেত্রেই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নিয়ম মেনে কাজ করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজই লিমরা ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। খুব শিগগিরই মালদা সানাউল্লাহ মঞ্চে কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হবে। সেখানে বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হবে স্কলারশিপ, মেডেল, ক্রেস্ট, মানপত্র ও বিভিন্ন আকর্ষণীয় উপহার। গোটা আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন সারিফ ইকবাল, মো. ইসমাইল হক, মো. আবদুল্লাহ, নাফিস আলি ও মো. শারিফুজ্জামান প্রমুখ। তাঁদের সার্বক্ষণিক দায়িত্বশীলতা ও সমন্বয়ের ফলে পরীক্ষাটি পুরোপুরি কোনো বিঘ্ন ছাড়াই সফলভাবে সম্পন্ন হয়। লিমরা ট্যালেন্ট সার্চ এক্সাম কমিটির অরগানাইজার নাসিমুল হক নাসিম বলেন, লিমরা ফাউন্ডেশন বরাবরই শিক্ষামুখী ও সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে থাকে। এই ট্যালেন্ট সার্চ পরীক্ষা মূলত শিক্ষার্থীদের ফাইনাল পরীক্ষার আগে নিজেদের প্রস্তুতি যাচাইয়ের সুযোগ করে দেয়। ছোটবেলা থেকেই যদি প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি হয়, তাহলে ভবিষ্যতে বড় পরীক্ষাগুলোতে তারা আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠবে। তিনি মনে করেন, এই ধরনের প্রতিযোগিতা গ্রামীণ ও প্রান্তিক এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী। কারণ শহরের তুলনায় গ্রামাঞ্চলের অনেক শিশুই এ ধরনের মেধাভিত্তিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ কম পায়। ফলে লিমরার এই উদ্যোগ তাদের জন্য একটি বড় মঞ্চ তৈরি করছে। অভিভাবক ও শিক্ষকরা এই আয়োজনকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। অনেক অভিভাবক জানান, প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে শিশুরা পড়াশোনার প্রতি আরও মনোযোগী হচ্ছে। শিক্ষকেরাও মনে করছেন, এমন পরীক্ষা শিশুদের মধ্যে ভয় নয় বরং আগ্রহ বাড়ায়। পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ায় এখন শিক্ষার্থীদের মধ্যে এক ধরনের আনন্দ ও উত্তেজনা কাজ করছে। আগামীতে কৃতিদের নিয়ে যে সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে, তাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রস্তুতি। লিমরা ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, ওই দিন শুধু পুরস্কার বিতরণ নয়, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা জোগাতে বিশেষ মোটিভেশনাল সেশন, অতিথিদের বক্তব্য এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও রাখা হবে। শিক্ষামুখী এমন উদ্যোগ ভবিষ্যতের প্রজন্মকে আরও মেধাবী, আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সাহায্য করবে এমনটাই মত অভিভাবক, শিক্ষক ও আয়োজক সকলের।








