এমএসসি’র সপ্তম এসএলএসটিতে নিয়োগে বিলম্বের প্রতিবাদ ও শূন্যপদ পূরনের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল
নতুন পয়গাম, কলকাতাঃ
পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চলমান সপ্তম এসএলএসটিতে (সহকারী শিক্ষক) নিয়োগ ২০২৩ প্রক্রিয়ায় বিলম্ব ও একাধিক জটিলতার অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ মিছিল করে কমিশনের কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন প্রায় ৭৫০ জন চাকরি প্রার্থী। প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক- চার স্তরের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া একসঙ্গে চললেও, কয়েকটি স্তরে কাজ আটকে থাকায় প্রার্থীদের উদ্বেগ বাড়ছে।
প্রার্থীদের অভিযোগ, ঘোষিত ১,৭২৯টি পদের বিপরীতে এখনও আরবি ও অ্যাডভান্স আরবিতে বড় সংখ্যক শূন্যপদ পূরণ হয়নি। শুধু প্রাথমিক স্তরেই আরবিতে ৪৭টি, আর উচ্চ প্রাথমিক স্তরে ৬০৯টি শূন্যপদ আজও ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া কমিশনের অবহেলার কারণে নেগেটিভ মার্কিং প্রত্যাহার ও বিএড সংক্রান্ত সমস্যায়ও অগ্রগতি থমকে রয়েছে।
প্রার্থীদের দাবি, নবম-দশম স্তরের নিয়োগ প্রক্রিয়া শেষ হলেও ৫৭টির মধ্যে ৫টি আরবি শূন্যপদসহ অন্যান্য বিষয়ে এখনও শূন্যপদ থেকে যাচ্ছে, যার কোনও স্পষ্ট ব্যাখ্যা কমিশন দেয়নি। এই দীর্ঘ বিলম্বে বহু মাদ্রাসায় শিক্ষকসংকট প্রকট হয়ে শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
এদিন চাকরি প্রার্থীদের মধ্যে থেকে চার জন প্রতিনিধি, মাদ্রাসা কমিশনের সেক্রেটারি সাজ্জাদ সিদ্দিকের নিকট স্মারকলিপি জমা করেন। প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন, অল বেঙ্গল অ্যারাবিক ফেডারেশনের সেক্রেটারি সেখ আরিফুল রহমান, মাসুদ কারিম, কারিমুল ইসলাম, কাউসার আলি। দাবিদাওয়া শুনে কমিশনের সেক্রেটারি জানান, “১৫ ডিসেম্বর হাই কোর্টের শুনানি আছে, সেটা দেখার পরই আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করব।” অন্যদিকে ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান করার জন্য চাকরি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অনুরোধ জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে প্রার্থীরা কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি জানান, প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরের অবশিষ্ট পরীক্ষার ফল ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে। নেগেটিভ মার্কিং ও বিএড সমস্যার দ্রুত সমাধান প্রয়োজন। আদালতের শুনানির পরবর্তী তারিখ খুব দূরে না রেখে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। বিজ্ঞাপিত ১,৭২৯টি স্থায়ী শূন্যপদের বাইরে আরও শূন্যপদ আপডেট করে নিয়োগে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। প্রাইমারি ও আপার প্রাইমারি স্তরে আরবী ও অ্যাডভান্স অ্যারাবিকে ৬৫৬ টি শুন্যপদের সব কটি সীট পূর্ন করার পদক্ষেপ নিতে হবে। সব বিষয়সহ সব বকেয়া শূন্যপদ পূরণের জন্য অবিলম্বে সাক্ষাৎকারের সময়সূচি ঘোষণা করতে হবে। আদালতের নির্দেশ জারি হলে যাতে আর সময় নষ্ট না হয়, তার জন্য আগাম উত্তর পত্র প্রকাশ সহ মেন পরীক্ষার রেজাল্টের আগে ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাখতে হবে যাতে ডিসেম্বরর মধ্যে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যায়।








