বনদপ্তরের বিরুদ্ধে অত্যাচারের অভিযোগে জাল-হাঁড়ি-ডোঙ্গা নিয়ে মৌন প্রতিবাদ মৎস্যজীবীদের
হাসান লস্কর, নতুন পয়গাম, সুন্দরবনঃ
সুন্দরবন লাগোয়া কুলতলী ব্লকের পূর্ব গুড়গুড়িয়া অঞ্চলের মৎস্যজীবীরা বনবিভাগের অত্যাচার ও হয়রানির অভিযোগ তুলে সোম ও মঙ্গলবার রাস্তায় মৌন মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের উদ্যোগে এই প্রতিবাদে অংশ নিয়ে মৎস্যজীবী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা জীবিকার সরঞ্জাম হিসেবে ব্যবহৃত তালের ডোঙ্গা, জাল, হাঁড়ি, বৈঠা ইত্যাদি নিয়ে রাস্তায় মৌন অবস্থান করেন।
মৎস্যজীবীদের দাবি, পুরুষানুক্রমে সুন্দরবনের জঙ্গলে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করা এই সম্প্রদায়ের উপর বনবিভাগের অত্যাচার দিন দিন বেড়ে চলেছে। মাকড়ী নদী ও চিতুড়ী জঙ্গল এলাকায় তাদের ডোঙ্গা ও নৌকা আটক করা, অবৈধভাবে অর্থ দাবি করা এবং জোরপূর্বক বিনামূল্যে ম্যানগ্রোভ চারা রোপণ ও পরিবেশ সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করানো হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
এরই প্রতিবাদে গত ২১ নভেম্বর বিশ্ব মৎস্যজীবী দিবসে শতাধিক তালের ডোঙ্গা নিয়ে কুলতলী বিট অফিস ঘেরাও ও অবরোধ করেন তারা। তারপর থেকে টানা ১১ দিন ধরে ধর্ণায় বসে আছেন মৎস্যজীবীরা। গুড়গুড়িয়া ডোঙ্গা মৎস্যজীবী সমিতির নারী সদস্যরাও এই কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।
মৎস্যজীবী ফোরামের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক মিলন দাস ও নেত্রী লীনা খাঁড়া জানান, কুলতলী বিট সংলগ্ন ভুবনেশ্বরীতে তাদের ধর্ণার মঞ্চ ভেঙে দেওয়া হয়েছে। প্রথমদিকে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলেও পরে তারা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েন। তাদের আরও অভিযোগ, বৈধ পাসের জন্য ২৫০ টাকা দাবি সত্ত্বেও কোনো লিখিত অনুমতিপত্র দেওয়া হচ্ছে না এবং কোন মাসে টাকা না দিলেই নেমে আসে হয়রানি।
মৎস্যজীবী শিপ্রা সরদার, সনকা নস্কর, মহারানী পৈলান, অর্চনা মন্ডল প্রমুখের বক্তব্য অনুযায়ী, অসংখ্য মৎস্যজীবী এ ধরনের অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন। ফোরামের পক্ষ থেকে মিলন দাস, লীনা খাঁড়া, নারায়ণ দাস ও তাপসী দলুই জানিয়েছেন, বিট আধিকারিকরা যদি তাদের ব্যক্তিগত দাবিপত্র গ্রহণ করেন এবং ন্যায্য প্রতিকার দেন, তবেই তারা এই ধর্ণা প্রত্যাহার করবেন নচেৎ নয়।







