নিমপীঠে কনকচূড় ধানের ব্যাপক চাষ, জয়নগরের মোয়া উৎপাদনে আশার সঞ্চার
উজ্জ্বল বন্দ্যোপাধ্যায়, নতুন পয়গাম, জয়নগর:
শীতের শুরুতেই বাজারে হাজির বিখ্যাত জয়নগরের মোয়া। আর সেই সুস্বাদু মোয়ার প্রধান উপাদান কনকচূড় ধান। এবার তারই ব্যাপক চাষ হয়েছে জয়নগরের নিমপীঠে। নিমপীঠ রামকৃষ্ণ আশ্রম কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের উদ্যোগে বিশাল এলাকা জুড়ে এই বিশেষ ধানের চাষে মোয়া প্রস্তুতকারীরা যেমন উপকৃত হচ্ছেন, তেমনই গুণগত মান বজায় রাখার ক্ষেত্রে মিলছে বাড়তি সুবিধা।
আগে কনকচূড় ধান সংগ্রহ করতে প্রস্তুতকারকদের রায়দিঘির কাশীনগর, মন্দিরবাজারের লক্ষ্মীকান্তপুরসহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে ছুটতে হতো। এতে পরিবহন খরচ যেমন বাড়ত, তেমনই ধানের গুণগত মান নিয়েও হত সমস্যা। বাজারে এই ধানের ঘাটতির সুযোগ নিয়ে অনেক অসাধু ব্যবসায়ী অন্য ধানের খই ব্যবহার করতেন বলে অভিযোগ ছিল।
এই পরিস্থিতি বদলাতে ব্লক কৃষি দপ্তর এবং কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্র কনকচূড় ধানের চাষ বাড়াতে উদ্যোগ নেয়। নিমপীঠ কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রে চাষাবাদ সফল হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদেরও হাতে–কলমে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন কৃষি বিজ্ঞানী ড. সোমনাথ সরদার। ফলে কৃষকরাও এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জয়নগরের এক মোয়া প্রস্তুতকারক জানান, “গত বছর তিন বিঘা জমিতে কনকচূড় ধানের চাষ করেছিলাম। ফলন ভালো হয়েছিল। তাই এ বছরও চাষ করেছি। এবার আর দূরে ধান কিনতে যেতে হবে না।”
জেলা প্রশাসনও মোয়ার গুণগত মান রক্ষা ও উৎপাদন বাড়াতে নজর দিচ্ছে। সব মিলিয়ে কনকচূড় ধানের স্থানীয় চাষ বৃদ্ধি জয়নগরের ঐতিহ্যবাহী মোয়া শিল্পের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠেছে।







