পুশব্যাকডদের ফিরিয়ে এনে কথা শোনার পরামর্শ সুপ্রিম কোর্টের
নতুন পয়গাম, নিউ দিল্লি:
আধার, ভোটার কার্ডের মতো সচিত্র পরিচয়পত্র থাকা সত্ত্বেও সন্দেহজনক বিদেশি পরিচয়ে পশ্চিমবঙ্গের কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানো নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করল সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মত, যাঁরা দাবি করছেন তাঁরা প্রকৃত ভারতীয় নাগরিক, তাঁদের অন্তত দেশে ফিরিয়ে এনে নিজের পরিচয় বোঝানোর সুযোগ দেওয়া উচিত। দেশের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ মঙ্গলবার স্পষ্ট বলেন, জন্ম সার্টিফিকেট, জমির নথি বা পরিবার-পরিজনের কাগজপত্র থাকলে সেগুলো যাচাই না করেই কাউকে সীমান্তের ওপারে পাঠানো ঠিক নয়। এভাবে কার্যত সোনালি বিবির ভারতীয় নাগরিকত্বের পক্ষেই সওয়াল করল সুপ্রিম কোর্ট।
কলকাতা হাই কোর্ট আগেই জানিয়েছিল, দিল্লি থেকে আটক করে বীরভূমের পাইকর এলাকার যে পরিবারকে দু-দিনের মধ্যেই বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে, তাঁদের বিষয়ে সঠিক নিয়ম মানা হয়নি। ভাদু শেখ নামে এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন তার মেয়ে, জামাই ও নাতিকে পরিচয়পত্র যাচাইয়ের সময় ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাঁর অভিযোগ, তাঁরা পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা, কর্মসূত্রে দিল্লিতে থাকতেন এবং তাঁর মেয়ে তখন গর্ভবতী ছিলেন। গত জুন মাসে সোনালি বিবি, সুইটি খাতুন-সহ মোট ৬ জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল।
এদিকে সরকারি পক্ষ বলেছে, আটক ব্যক্তিরা নিজেরাই জানিয়ে ছিলেন, তাঁরা বাংলাদেশি এবং কোনও পরিচয়পত্র দেখাতে পারেননি। আদালতের বক্তব্য, পুলিশের কাছে দেওয়া কথা সবসময় স্বেচ্ছায় বলা হয়, এমনটা ধরা যায় না। চাপ বা ভয় দেখিয়েও তা আদায় করা হতে পারে। তাই শুধু সেই কথার ভিত্তিতে বিদেশে পাঠানোটা আইনের দৃষ্টিতে ন্যায্য নয়।
সর্বোচ্চ আদালত বলেছে, কেউ যদি সত্যিই বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে এসে থাকেন, তাঁকে ফেরত পাঠানো স্বাভাবিক। কিন্তু কেউ যদি বলেন “আমি ভারতীয়, এখানেই জন্মেছি, বড় হয়েছি” — তবে তাঁকে কথা বলার অধিকার ও সুযোগ দিতে হবে। আদালত কেন্দ্রকে সোমবার ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে, পুশব্যাক করা এসব মানুষদের ফিরিয়ে এনে নথিপত্র যাচাই করার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা জানাতে। অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট চাঁপাই নবাবগঞ্জের পুলিশ তাঁদের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে ধরে। সেই থেকেই তাঁরা বাংলাদেশে বন্দি রয়েছে। তৃণমূলের রাজ্যাসভার সাংসদ ও পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের সভাপতি সামিরুল ইসলাম এই আইনি লড়াইয়ে এগিয়ে আসেন। ২৬ সেপ্টেম্বর কলকাতা হাই কোর্ট নির্দেশ দেয়, সোনালি-সহ ৬ জনকেই এক মাসের মধ্যে ভারতে ফেরাতে হবে। সে সময়সীমা শেষ হয় ২৪ অক্টোবর। কিন্তু তার আগেই, ২২ অক্টোবর ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করে কেন্দ্র সরকার। মঙ্গলবার তারই শুনানিতে কেন্দ্র আদালতের কাছে সময় চাইলে, প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে জানায়, মানবাধিকার, বিশেষ করে একজন গর্ভবতী মহিলার জীবন ও মর্যাদা রক্ষা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাই তাদেরকে দেশে ফিরিয়ে এনে তাদের কথা শুনতে হবে, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে হবে।








