ইরান কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে?
নতুন পয়গাম, তেহরান:
জুন মাসে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার পর ইরান কূটনৈতিক ক্ষেত্রে নরমপন্থা অবলম্বনের চেষ্টা করছে। তেহরানের ঘুরে দাঁড়ানো নিয়ে সোমবার এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান বলেছে, তেহরান আঞ্চলিক সম্পর্ক উন্নত করার জন্য ক্ষীণ সুযোগ দেখছে। জুন মাসের মার্কিন বোমা হামলা ও কাতারে হামাস নেতাদের ওপর ইসরাইলি হামলার পর উপসাগরীয় দেশগুলো বিচলিত। ইরানের এই নমনীয় বিদেশনীতি আংশিকভাবে প্রয়োজনের তাগিদে তৈরি হয়েছে। কারণ, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের আঞ্চলিক সামরিক জোটের অধিকাংশই ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তেহরান মনে করছে, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের মাধ্যমে ট্রাম্প আরব প্রতিবেশীদের সঙ্গে কম বিঘ্নকারী জোট গঠনের সুযোগ করে দিয়েছেন।
সম্প্রতি তেহরানে অনুষ্ঠিত এক ফোরামে আলোচনা হয় কীভাবে ট্রাম্পের নেতৃত্বে আমেরিকা এখন ‘দুর্বৃত্ত রাষ্ট্র’ হিসেবে বিশ্বব্যবস্থাকে ধ্বংস করছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের মূল ভিত্তিগুলো সেইসব শক্তির দ্বারা নজিরবিহীন আক্রমণের শিকার হয়েছে, যাদের স্থায়ী রক্ষক ও তত্ত্বাবধায়ক হওয়ার কথা ছিল।
ইরান এখন এই ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে সৌদি আরব, মিশর ও কাতারের মতো দেশগুলোর দিকে বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে আঞ্চলিকভাবে নিজেদের অবস্থান বদলাতে চাইছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গাল্ফ কো-অপারেশন কাউন্সিল বা জিসিসি-তে এখন বিশাল পরিবর্তন এসেছে; তারা এখন ইরানের পরিবর্তে প্রধান হুমকি হিসেবে ইসরাইলকে মনে করছে।
তবে নতুন যুগে পদার্পণের আলোচনা সত্ত্বেও ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি ত্যাগ করছে না। অনেক কর্মকর্তা আশঙ্কা করছেন, ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আরও হামলা চালাতে পারে। তাই তারা সামরিক প্রস্তুতি নিচ্ছে। কেউ কেউ দাবি করছেন, মার্কিন হুমকি নতুন প্রজন্মের মধ্যে আমেরিকা-বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করছে।








