‘আমি পাহারাদার, ওরা জমিদার’ বনগাঁ থেকে বিজেপি ও কমিশনকে তোপ মমতার
নতুন পয়গাম, ঠাকুরনগর:
এসআইআর ইস্যুতে ঠারেঠোরে নিউটনের তৃতীয় গতিসূত্র অনুযায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁঙ্কার দিয়ে বললেন, ‘এসআইআর-এর নাম করে বাংলাকে যদি আঘাত করা হয়, প্রত্যাঘাত কিন্তু অপেক্ষা করছে।’ মঙ্গলবার বনগাঁ সফরে গিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে তিনি বলেন, রাজ্যে আর কত মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়বে, প্রতিদিনই সংখ্যাতত্ত্ব দিয়ে নিত্যনতুন দাবি করছেন বিজেপি নেতারা। এসআইআর ইস্যুতে কমিশনের থেকে আগ বাড়িয়ে বলছে বিজেপি। এতদিন এসআইআর করার সময় পেলে না। হঠাৎ এখন ভোটের মুখে কেন?
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘এসআইআর করতে তিন বছর সময় লাগে। সেটা দু-মাসে করা হচ্ছে। উদোর পিণ্ডি বুদোর ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে। এসআইআর হোক, কিন্তু তিন বছর ধরে হোক। একজনও প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ দিতে পারবে না। যাঁরা আগে ভোট দিয়েছেন, বিভিন্ন স্কিমে টাকা পান, যাঁরা এখানে দীর্ঘদিন বসবাস করছেন, তাঁদের তাড়ানোর অধিকার তোমাদের নেই।’ একইসঙ্গে বিজেপিকে চড়া সুরে আক্রমণ শানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বিজেপি অফিস থেকে লিস্ট ঠিক করে দেবে, এটা মানা যায় না। নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে নিরপেক্ষ ভূমিকা নেওয়া। কিন্তু তারা বিজেপির কমিশনের মতো কাজ করবে কেন — এ প্রশ্ন তোলেন মমতা।’
বিভিন্ন মহল থেকে বলা হচ্ছে, মতুয়ারা এসআইআর প্রক্রিয়ায় সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই এদিন মতুয়াদের গড় বলে পরিচিত বনগাঁ গিয়ে এই সম্প্রদায়ের মানুষদের পাশে দাঁড়ালেন মমতা। তাদেরকে আশ্বাস ও অভয় দিয়ে বললেন, ‘ভোট চাইতে আসিনি। কেউ ভয় পাবেন না। আপনাদেরকে কেউ তাড়াতে পারবে না। তৃণমূল কংগ্রেস থাকতে, আপনাদের কারও গায়ে হাত দিতে দেব না। জোর করে বাংলাকে দখল করতে দেব না। বিজেপির রক্তচক্ষুর পরোয়া করি না।’ এদিকে তৃণমূলেরও অভিযোগ, কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে ব্যবহার এবং বিপুল টাকা খরচের পর এবার নির্বাচন কমিশনকে সহকারী সংস্থা হিসেবে নিয়োগ করেছে কেন্দ্রের শাসকদল।
মমতা আরো বলেন, এসআইআরকে সামনে রেখে বিজেপি এনআরসির ছক কষছে। তাঁর কথায়, খসড়া তালিকা বের হওয়ার পর কাগজপত্রের সমস্যা হলে, রাজ্য সরকারের তরফে সবরকম সাহায্য করা হবে। আমরা সবসময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি, থাকব। আমি বাংলার মানুষের পাহারাদার, আর ওরা হল জমিদার।








