ব্যাঙ্ক-জুমলা: মোদি জমানায় ১৮ লক্ষ কোটির খয়রাতি ঋণখেলাপিদের বকেয়া মকুব, আত্মহত্যা বাড়ছে চাষিদের
নতুন পয়গাম, নয়াদিল্লি:
গত ১১ বছরে নরেন্দ্র মোদির আমলে দেশের ব্যাংকগুলির মুনাফা হয়েছে প্রায় ২১ লক্ষ কোটি টাকা। কিন্তু তা থেকে ১৮ লক্ষ কোটি টাকা সরানো হয়েছে অনাদায়ী ঋণের জন্য। অর্থাৎ যে সংস্থাগুলি মোটা অংকের ঋণ নিয়ে শোধ করেনি, সেইসব ঋণখেলাপিদের বকেয়া মকুব করেছে ব্যাংকগুলি। সেই খয়রাতি সামাল দিতেই রাখা ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ। বিরোধীদের অভিযোগ, এর সবটাই হয়েছে মোদি সরকারের অঙ্গুলি হেলনে বা কারসাজিতে। অনুৎপাদক সম্পদ বা নন পারফর্মিং অ্যাসেটের পাহাড় যাতে কমানো যায়। এর মাশুল দিতে হয়েছে ব্যাঙ্কগুলোকে এবং পরোক্ষে দেশবাসীকে। তাই বাস্তবে ২১ লক্ষ কোটি টাকা লাভ হলেও তা থেকে ১৮ লক্ষ কোটি টাকা অনাদায়ী ঋণ পরিশোধ বাবদ সরিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে ব্যাঙ্কের লাভ হয়ে ছে মাত্র ৩ লক্ষ কোটি টাকা। লাভের গুড় পিঁপড়েয় খায়নি, খেয়েছে রাঘব-বোয়ালরা। আর সারের ওপর ভরতুকি তুলে নেওয়ায়, চাষের জন্য সামান্য কয়েক হাজার টাকা শুধতে না পেরে নিত্যদিন আত্মহত্যা করছে কৃষক।
এই তালিকায় বেশ কিছু নামজাদা সংস্থা বা কোম্পানির নাম রয়েছে, যারা বিপুল অংকের লোন বা ঋণ নিয়ে নামমাত্র পরিশোধ করেছে। বাকি বিপুল পরিমাণ ঋণের অর্থ মকুব করে দিয়েছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। বিরোধীদের অভিযোগ, মোদি জমানায় লাগাতার প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে ঋণখেলাপিদের। বিভিন্ন রাজ্যে লক্ষ লক্ষ একর জমি কর্পোরেট বন্ধুদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে মাত্র ১ টাকা লিজে। বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকারের ‘বন্ধু’ মাত্র কয়েকজন শিল্পপতিকে বেছে বেছে লুটের সুযোগ করে দিতেই ১৮ লক্ষ কোটি টাকা বকেয়া মকুবের এই খয়রাতি। এটা না হলে ব্যাংকগুলির লাভ বাড়ত সাত গুণ। ৩ লক্ষ কোটির মুনাফা হত ২১ লক্ষ কোটি। এই পাহাড় প্রমাণ অর্থ দিয়ে দেশের অনেক জনকল্যাণকর প্রকল্পে নিম্নবিত্ত মানুষ ফায়দা পেত। কিন্তু কেন্দ্র সরকার শুরু থেকেই তেলা মাথায় তেল দিয়ে চলেছে। আর দেশের ৭০ শতাংশ গরিবগুর্বো মানুষকে বলছে, ফেলা কড়ি মাখো তেল।
কেন্দ্রের এই মানুষমারা নীতির প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে চলেছেন ব্যাংক কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলির আর্থিক স্ট্যাটাস ও মর্যাদা নষ্ট করার চেষ্টা চলছে। পছন্দের কর্পোরেট সংস্থাকে পাইয়ে দেওয়ার বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। নামজাদা এক বিদ্যুৎ উৎপাদক সংস্থা ৪৮ হাজার কোটি ঋণ নিয়ে শোধ করেছে মাত্র ১৯ হাজার কোটি। আর একটি বৈদ্যুতিন যন্ত্র প্রস্তুতকারক কোম্পানি ৪৬ হাজার কোটি ঋণ নিয়ে শুধেছে ৩ হাজার কোটিরও কম। ২২ হাজার কোটি ঋণ নিয়ে এক জাহাজ কোম্পানি শোধ করেছে মাত্র ১২০০ কোটি। এদের বকেয়া ঋণের টাকা মকুব করে দেওয়া হয়েছে।








