‘চক্রব্যূহে আটকে পড়লে বেরনো মুশকিল’ অনেকদিন পর মুখ খুললেন জগদীপ ধনকড়
নতুন পয়গাম, ভোপাল:
গতবছর ২১ জুলাই আচমকা দেশের উপরাষ্ট্রপতি পদে ইস্তফা দিয়েছিলেন জগদীপ ধনকড়। তারপর দীর্ঘদিন তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। কয়েক মাস আগে নতুন উপরাষ্ট্রপতি হিসেবে সিপি বালাকৃষ্ণন শপথ নেওয়ার সময় ধনকড়কে দেখা গিয়েছিল। তাঁকে হাজির করিয়ে বিরোধীদের মুখ বন্ধ করতে চেয়েছিল বিজেপি তথা কেন্দ্র সরকার। শনিবার মধ্যপ্রদেশের ভোপালে আরএসএস-এর যুগ্মসচিব মনমোহন বৈদ্যর লেখা বই উদ্বোধন করতে যান ধনকড়।
এদিন মঞ্চে দাঁড়িয়ে বক্তৃতাও করলেন জগদীপ। তিনি যা বললেন, তা যথেষ্ট ইঙ্গিতপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আইনজীবী থেকে রাজনীতির আঙিনায় পা রেখে পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল এবং তারপর দেশের উপরাষ্ট্রপতি থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এদিন তিনি বলেন, “চার মাস পর এখন আর ইতস্তত করার কিছু নেই আমার।”
২১ জুলাই উপরাষ্ট্রপতি পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পর এই প্রথম প্রকাশ্যে বক্তৃতা করলেন তিনি। বিজেপি-র শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরেই মেয়াদ শেষের দু-বছর আগে তিনি ইস্তফা দেন বলে জানা যায় সেই সময়। সেই নিয়ে কম কাটাছেঁড়া কম হয়নি। এদিন সেই জল্পনা আরও উস্কেই গিলেন ধনকড়। বললেন, “ঈশ্বর না করুন, ভাষ্যের বেড়াজালে যে কেউ আটকে পড়তে পারেন। একবার চক্রব্যূহে আটকে পড়লে, বেরিয়ে আসা কঠিন হয়ে যায়।” এর পর যদিও হেসে উঠে ধনকড় বলেন, “নিজের উদাহরণ দিচ্ছি না।”
তাঁর কথায়, “আমাদের উজ্জ্বল অতীত উঠে এসেছে বইয়ে। যাঁরা ঘুমিয়ে আছেন, তাঁদের জাগিয়ে তুলে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবে। আজ এমন সময়ে দাঁড়িয়ে আমরা যে, নীতিবোধ, বুদ্ধিমত্তা এবং আধ্যাত্মিকতা থেকে মানুষ দূরে সরে যাচ্ছেন।” উল্লেখ্য, বিজেপি শাসিত ডাবল ইঞ্জিন রাজ্য মধ্যপ্রদেশে এদিন ধনকড়কে স্বাগত জানাতে কোনও মন্ত্রী বা নেতাকে দেখা যায়নি। রাজ্যের প্রাক্তন কংগ্রেসী মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংহ বিজেপি-কে কটাক্ষও করে বলেন, বিজেপি ইউজ অ্যান্ড থ্রো নীতি অনুসরণ করে। কাজের বেলায় কাজি, কাজ ফুরোলেই পাজি।








